ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্ত্রীকে বিষ পানে হত্যার চেষ্টা করেছে বখাটে স্বামী। উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের শাহাজাহান তালুকদারের ছেলে পান্নু তালকদার শনিবার সকাল ১০ টায় তার স্ত্রী লাকী আক্তারের (২৭) বুকের ওপর বসে জোর পূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
এ সময় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে লাকী বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এসময় পান্নু পালিয়ে যায়। লাকী একই গ্রামের হাবিবুর রহমান হবি মোল্যার মেয়ে। সে আনন্দ স্কুলে শিক্ষকতা করেন বলে জানা গেছে।
লাকী জানান, প্রেমের সম্পর্ক করে ২০০৭ সালে পান্নুকে বিবাহ করেন। বর্তমানে তাদের ঘরে জান্নাত (৫) ও জুই (২) নামের দুইজন কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে বখাটে স্বামী পান্নু ও শ্বাশুড়ী মনোয়ারা বেগম প্রায় দিনই লাকীকে চাপ দিতে থাকে। যৌতুক দিতে রাজী না হওয়ায় লাকীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী ও শ্বাশুড়ী। দিন দিন এ নির্যাতন বাড়তেই থাকে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি আদালতে যৌতুক মামলা দেয় লাকী। এর পর অত্যাচার আরো বেড়ে যায়। মামলা তুলে নিতে লাকীকে চাপ দিতে থাকে।
যৌতুক মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় শনিবার সকালে লাকীর বুকের ওপর বসে জোর পূর্বক মুখের মধ্যে বিষ ঢেলে দেয় পান্নু ও শাশুড়ী মনোয়ারা বেগম।
পুরাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান মিয়া বলেন, লাকীর স্বামী পান্নু মাঝে মধ্যেই স্ত্রীকে মারপিট করে। আমি একাধিক বার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। পান্নু তার লাকীকে মেরে ফেলার জন্য বিষ খাওয়ায়। যদি সময় মত হাসপাতালে নেয়া না যেতো, তাহলে লাকী মারাই যেতো। আমি ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেছি। লাকীর পরিবারের লোকদের বলেছি মামলা দিতে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎস ডাঃ কাজী সাব্বির বলেন, লাকী বিষক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার পৌনে বারোটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওয়াশ করে শরীর থেকে বিষ বের করা হয়। বর্তমানে শঙ্কামুক্ত তবে ৭২ ঘন্টা পার হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নগরকান্দা থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





