কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্কুল পরিচালনা কমিটির নীতিমালা অমান্য করে উপজেলার বামনের বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবৈধ কমিটি গোপনে করার পায়তারা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক তার পছন্দমত অবৈধ সদস্য তৈরি করে গোপনে কমিটি গঠনের চেষ্টা করায় কুড়িগ্রাম জজ আদালতে মামলা করেছেন এক অভিভাবক সদস্য। এনিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অপর দিকে স্কুলের নিয়মিত কমিটি না থাকার কারণে সরকারী আইন অমান্য করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির জীবন্ত গাছ কেটে সাবার করেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ বিলুপ্ত ম্যানেজিং কমিটি।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা।যে কোন মুর্হুত্বে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলার বামনের বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। ৯ মে অনুষ্টিত হয় ওই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটদানের সুযোগ। ১০৪ জন অভিভাবরে ভোটে নির্বাচিত হন দুইজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা অভিভাবক সদস্য। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ক্যাচম্যান এলাকা থেকে একজন বিদ্যোৎসাহী ও একজন মহিলা শিক্ষিকাসহ ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার নিয়ম থাকলেও তা করেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। ভারে ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত শনিবার সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলটিতে যেমনটি বসার জায়গা নেই তেমনি স্কুল গৃহের ইট গুলো খুলে খুলে কে বা কাহারা নিয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষকের রুমে চেয়ার আছে ৩টি। অথচ শিক্ষক রয়েছেন ৪জন। বেঞ্চ রয়েছে ১৫/২০টি। রুমের ভগ্নদশা। যে কোন মুর্হুত্বে প্লাষ্টার খুলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভবনাও রয়েছে। এরই মধ্যে চলছে নিয়মিত কমিটি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভেলকিবাজী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটির মাধ্যমে একজন পিয়ন নিয়োগ করা হবে। কিন্তু যদি প্রধান শিক্ষকের কোরাম না থাকে তাহলেতো তিনি নিয়োগ দিতে পারবেন না। সেকারণেই সরকারী নীতিমালা ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের পক্ষের অবৈধ ভাবে সদস্য নিয়ে কমিটি গঠনে ব্যাস্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি অন্য মৌজার বিদ্যেৎসাহী মনোনিত করেন কামাল হোসেন তোতাকে। অপরদিকে একজন মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি নীতিমালা থাকলেও তা কৌশলে এড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ফলে চরম উত্তেজনার মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ নেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন না করে নিজের পকেট ভর্তি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন। সরে জমিনে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানের ৭টি বিভিন্ন প্রজাতির জীবন্ত গাছ কর্তন করে স্কুলের আসবাবপত্র তৈরী না করে নিজের বাড়ীতে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, নিজের ইচ্ছায় তিনি গাছ গুলো কেটেছেন। আইন মানেন না। তিনি মাদকাসক্ত। এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছেন। সাবেক সভাপতি এহেছান জানালেন, তাকে না জানিয়ে গাছ গুলো কেটেছেন হেলাল মাস্টার। অভিভাবক সদস্য শহিদুল জানালেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আইন মানেন না। যেকারনেই আমি আদালতের স্বরনাপন্ন হয়েছি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, গাছ কর্তন করা আমার ঠিক হয়নি। তবে স্থানীয় এমপি দিয়েছেন বিদ্যোৎসাহী সদস্য। সেখানে আমার করার কিছুই ছিল না। আদালত থেকে মামলার কাগজপত্র পাওয়া গেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার অধিকারী ঁজানান, আমি স্কুলের গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কমিটি অনুমোদন হয়নি। একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই বাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।