মানিকগঞ্জের শিবালয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় পদ্মা-যমুনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহা-উৎসব চলছে। ফলে হুমকির সম্মুক্ষীণ হয়ে পড়েছে আরিচা বন্দর, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ও তেওতা-জাফরগঞ্জ সহ শতাধিক সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান।

দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নদীর তীরবর্তি এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে মাটি ফেলে ভরাট করছে নীচু জমি। পাশাপাশি হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা।

স্থানীয় কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কথিত এ সব রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। কোন রকম বাঁধা না থাকায় বালু মাটি ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগীতামূলক বালু উত্তোলন করায় নদী পার এলাকা হুমকির সস্মুক্ষিন হয়ে পড়েছে। দেখে মনে হবে এটা সরকারী ইজারা দেওয়া কোন বালু মহল। স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামীলীগের কতিপয় কিছু নেতাকর্মীরা স্থানীয় ভূমি অফিসসহ সকল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পদ্মা-যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু মাটি কেটে বাণিজ্যিকভাবে অবৈধভাবে সরকারি মাটি বিক্রি করে লক্ষ, লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

আরিচা ঘাট সংলগ্ন যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে বর্ষার মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। কারণ সবসময় নদীর নিচু এলাকা দিয়েই পানির প্রবাহ বইতে থাকে। তাই বর্ষার সময় পানির প্রবল স্রোতে নদীর পার এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। আর উক্ত এলাকায় একবার নদী ভাঙ্গন শুরু হলে ঐতিহ্যবাহী আরিচা বন্দর,শিবালয় বন্দর বাজার, আবহাওয়া অফিস, প্রধান মন্ত্রীর প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, পিসিপোল নির্মাণ প্ল্যান্ট, তেওতা-জাফরগঞ্জ,

আরিচা-দাসকান্দি বেড়িবাধ কাম সড়ক এবং বিআইডব্লিউটিএ,বিআইডব্লিউটিসি অফিস, শিবালয় থানা ভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, সরকারী ডাকবাংলো ও তিনটি হাই স্কুল একটি কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসাসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান এবং নদী সংলগ্ন আশপাশের গ্রামগুলো নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমে আরিচা এলাকায় নদী ভাঙ্গনের আশংকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।

আরিচা নদী বন্দর কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, আরিচা নদী বন্দর সীমানা এলাকায় দেশীয় ড্রেজার দ্বারা অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য আমরা জেলা প্রশাসক বরাবরে একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তুু অসাধু চক্রটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের আবেদন কোন কাজেই আসছে না।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, মাটি বিক্রেতারা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদেরকে ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিকবার মোবাইলকোর্ট বসিয়ে জরিমানাসহ পাইপ কেটে ড্রেজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারপরও এসব মাটি বিক্রেতাদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না।