এএফপির খবরে বলা হয়, গত বুধবার ৫০ জনের মত মুসলমান ইয়াঙ্গুনের থাকেটা উপশহরের রাস্তায় নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। মিয়ানমারে রাস্তায় নামাজ আদায়ের জন্য তিনজন মুসলমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তারা সচরাচর একটি মুসলিম বিদ্যালয়ে নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু চরমপন্থী বৌদ্ধদের বিক্ষোভের মুখে সরকার সেই বিদ্যালয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এএফপির খবরে বলা হয়, গত বুধবার ৫০ জনের মত মুসলমান ইয়াঙ্গুনের থাকেটা উপশহরের রাস্তায় নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। এই এলাকায় মুসলিমদের যে কোনধরণের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চরমপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বারবার হামলা চালিয়ে আসছে।
চরমপন্থীদের অভিযোগের কারণে গত এপ্রিলের শেষের দিকে নিকটবর্তী দুটি ইসলামিক বিদ্যালয়ে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। চরমপন্থীরা অভিযোগ করে যে, মুসলিমরা নামাজ আদায়ের জন্য অবৈধভাবে ওই স্কুল দুটি ব্যবহার করে আসছে।
মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, স্কুল বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা সাময়িক। কিন্তু সেগুলো কবে নাগাদ খুলে দেয়া হতে পারে তার কোনও সময়সীমা জানায়নি। স্থানীয় একজন মুসলিম নেতা জাও মিন লাত গত সপ্তাহে শুরু হওয়া পবিত্র রমজান মাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “আমরা দুঃখিত, এই মাসটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বেশ কয়েক দশক ধরে ওই বিদ্যালয়েগুলোতে নামাজ আদায় করে আসছিলাম। প্রায় ৬০ বছরেরও বেশি সময় পর আমাদেরকে সেখানে নামাজ পড়তে বাধা দেয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “ প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকায় নামাজ আদায়ের বিষয়টি স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসনের প্রতি হুমকি হয়ে উঠছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা তিনজন মুসলমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় (প্রকৃতপক্ষে মাদ্রাসা) পরিদর্শন করতে গিয়ে ছবি তোলার সময় দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপির সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন।
নামাজ আদায়ের জন্য শহরের অন্য এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ৫০ বছরের বেশি বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা খিন সো বলেন, “এটি আমাদের মসজিদ এবং বিদ্যালয়। আমরা জানি না, এটি আবার কবে খুলে দেয়া হবে।” দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের চরমপন্থীরা মুসলিম-বিরোধী কর্মকা- চালিয়ে যাবার প্রেক্ষাপটে সরকার যখন ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছে তখনই নামাজ আদায়ের দায়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের ঘটনা ঘটলো।
গত অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সেনা অভিযান চলছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চরমপন্থী বৌদ্ধ সংগঠন মা বা থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু সংগঠনটি শুধু নাম পাল্টে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
গত মে মাসে ইয়াঙ্গুনের আরেকটি মহল্লায় চরমপন্থী বৌদ্ধরা মুসলিমদের ওপর হামলা করলে ওই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। অবৈধ রোহিঙ্গা মুসলমানরা লুকিয়ে আছে এমন অভিযোগে চরমপন্থী বৌদ্ধরা পুলিশ পাঠিয়ে ওই মহল্লায় অভিযান চালায়।





