ভোলার চরফ্যাসন পৌরসভাসহ আশপাশের এলাকায় মরিচ ও হলুদ তৈরির প্রায় ১শ ৫০টিরও বেশি মিল রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন নাই একটিরও। এবার অসময়ের বৃষ্টির কারনে মরিচের ফলন না হওয়ায় মিলগুলোয় চলছে ভেজাল

মরিচ ও হলুদ উৎপাদনের উৎসব। এক বস্তা (৫০ কেজি) বোম্বাই মরিচ ও ২০ বস্তা ধানের কুঁড়া, সঙ্গে সাড়ে ৫ কেজি রাসায়নিক পদার্থ (অরেঞ্জ কালার)। মেশিনে গুঁড়া করার পর তা হয়ে উঠছে এক হাজার ৫৫ কেজি গুঁড়া মরিচ। একইভাবে তৈরি হচ্ছে হলুদের গুঁড়া। প্যাকেটজাত হয়ে তা ঠাঁই নিচ্ছে ভোক্তার রান্নাঘরে। মরিচ ও হলুদের নামে বিক্রি হওয়া এ ভেজালসামগ্রী মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে ভোক্তাদের।

চরফ্যাসন সদর বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জনতা রোডের সাজাহান মুন্সির মরিচের মিলে দুটি মেশিনে চলছে ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া তৈরির কাজ। তারা ব্যস্ত রঙ, বোম্বাই মরিচ ও ধানের কুঁড়া গুঁড়া করার কাজে। পাশেই চারজন সহকারী গুঁড়া করা এসব উপাদান আনুপাতিক হারে মেশানোর কাজে ব্যস্ত। আরেকজন ব্যস্ত মিশ্রিত ভেজাল গুঁড়া প্যাকেজিং গুদামে নিয়ে যাওয়ার কাজে।

ক্রেতা পরিচয়ে জানতে চাইলে মিল মালিক সাজাহান মুন্সি জানান, প্রতিদিন প্রায় এক টন মরিচ ও হলুদ প্রস্তত করার সক্ষমতা আছে তাদের। তবে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করেন তারা। একই এলাকায় সিপন মহাজনের মরিচের মিলেও প্রতিদিন প্রায় দশ পনেরো মন মরিচ ও হলুদের গুঁড়া উৎপাদন হয় বলে জানা যায়।

বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই চরফ্যাসন পৌর এলাকার জনতা রোডেরসহ ১৫টি মিলে মরিচ ও হলুদের গুড়া প্রস্তত করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতি মাসে এক দেড় টন মরিচ ও হলুদের গুড়া বাজারজাত করছে। এসব মিল ছাড়াও চরফ্যাসন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল মরিচ ও হলুদ ভেঙ্গে প্যাকেটজাতের পর বিক্রি করছে আবুল খায়ের, কবির হোসেন ও ইকবাল হোসেনসহ বেশ কয়েকটি মরিচের মিল প্রতিষ্ঠান।

মিল মালিকরা জানান, ঠিক ভেজাল নয়, একটু নিন্মমানের পণ্য ব্যবহার করা হয়। চরফ্যাসনের প্রতিটি এলাকায় এ মানের মরিচ ও হলুদের গুরার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এতে পুঁজি লাগে কম। কিন্তু লাভ বেশি। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি মাসে মোটা অংকের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে বলে জানান এসব ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫০ কেজি হলুদের গুঁড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫ কেজি আস্ত হলুদ, এক বস্তা ধানের কুঁড়া ও ১শ গ্রাম রঙ। আর উৎপাদিত এ পণ্য বিক্রিও হচ্ছে অনেক কম দামে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে একাধিকবার এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল এবং জরিমানা করেও এদের এমন কর্মকান্ড বন্ধকরা যায়নি। জেল খেটে ফের তারা ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। এখন চরফ্যাসনের সচেতন মহলের প্রশ্ন এদের থামাবে কে?