বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে করা নাইকো দুর্নীতি মামলা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আন্তর্জাতিক আদালতে এ সংক্রান্ত একটি আরব্রিট্রেশন মামলা বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।
আন্তজার্তিক সালিশি আদালতে নাইকো সংক্রান্ত আরব্রিট্রেশন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। গত বছরের ১৬ আগস্ট ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেন। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন মওদুদ।
গত পহেলা ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করে। পরে হাইকোর্ট ওই রুল খারিজ করে দেয়। এই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। আজ আদালতে আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উপরোক্ত আদেশ দেয়।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতে চলা নাইকো মামলা তিন মাস স্থগিত থাকবে। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, শুধু মওদুদ আহমদের ক্ষেত্রে নাইকো দুর্নীতি মামলা তিন মাস স্থগিত থাকবে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জারি করা রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মওদুদ আহমদ।
এর আগে মওদুদ আহমদ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদনে উল্লেখ করেন, নাইকোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নাইকো, বাপেক্স ও পেট্রো বাংলার মধ্যে ওয়াশিংটনের সালিশি আদালতে দুর্নীতির বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। সালিশি আদালত গত বছরে ১৯ জুলাই এক আদেশ দেন। যে আদেশে ওই আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের আদালতে এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়।
জানা যায়, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। যেখানে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্স্’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ





