প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে মামলা করেছেন জেলা যুবলীগের এক নেতা।
বুধবার সকালে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন আহমেদ শান্ত বাবু বাদী হয়ে গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর ২নং আদালতে এই নালিশি মামলা করেন।পরে আদালতের বিচারক শহীদুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আগামি ২৭ জুলাই সশরীরে তাদের আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী সনাতন উল্লাস ও নাসির উদ্দিন।
গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে ২৮ মে সন্ধ্যায় শাহবাগে মশালমিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে বের হওয়া ওই মিছিলে আরও অন্তত ৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি অংশ নেন। মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। তাই দন্ড-বিধির ৫০০, ৫০১, ১১৪ ধারায় করা ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আরজি জানানো হয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে ইমরানসহ অন্য আসামিরা কটূক্তিমূলক স্লোগান দিয়েছেন। তাঁদের স্লোগান মানহানিকর।
এর আগে ২৮ মে রাতে ইমরান এইচ সরকারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি ওই সময় বলেছিলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেখানে ইমরান এইচ সরকার ও সনাতনকে (সংস্কৃতিকর্মী) দেখা যাবে, সেখানে কুত্তার মতো পেটানো হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়া হয়। ভাস্কর্যটি অপসারণের প্রতিবাদে পরদিন শাহবাগে ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্ব গণজাগরণ মঞ্চ মিছিল বের করে। ওই মিছিলে ‘ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’ বলে স্লোগান দেয়া হয়। যদিও ভাস্কর্যটি পরে আদালত চত্বরেই এ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনরায় স্থাপন করা হয়।





