ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারের গম সংগ্রহ অভিযানের নামে কোটি কোটি টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকরা খাদ্য গুদামে গম দেওয়া তো দুরের কথা তাদের কান পর্যন্ত পৌছেনা সংগ্রহের কথা। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে কখনই গম সরবরাহ করতে পারেন না তারা। এতে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হয়না। সরকারের ভর্তুকীর টাকা হরিলুট হয়ে এমন অভিযোগও কৃষকদের। তবে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে নারাজ।
জেলা খাদ্য বিভাগ জানায় গোটা দেশে ১ লাখ মে. টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সর্বচ্চ গম উৎপাদনকারী ঠাকুরগাঁও জেলা বরাদ্দ পায় ১৭ হাজার ৯শ মে. টন। বর্তমান গমের বাজারদর ১৮ টাকা কেজি হলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের জন্য সরকার ভর্তুকী দিচ্ছে ১০ টাকা। এতে মোট ভর্তুকীর পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। এই টাকা কৃষকের হাতে পৌছাতে সরকার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করলেও এসব নিয়ন্ত্রন করে ক্ষমতাসীন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও মধ্যসত্ত্বভোগিরা।
নিয়মের ফাঁক গড়িয়ে সরকারের এসব ভর্তুকীর টাকা গচ্ছায় যায়। গম সংগ্রহ অভিযানে কৃষকের তালিকা হলেও তা জানতেও পারেনা তারা। সংশ্লিষ্ট বিভাগে গুদামে গম দেয়ার স্লিপ খুজতে গেলে বিমুখ হয়ে ফিরছে এমন অভিযোগ কৃষকদের। আর অসময়ে গম সংগ্রহের অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশও করে কৃষকরা বলছেন, এখন শতকরা ৯০ ভাগ কৃষকের ঘর গম শুন্য। মধ্যসত্ত্বভোগীরা স্থানীয় বাজার থেকে গম কিনে সরকারি গোডাউনে তা সরবরাহ করছে। এমন অবস্থা ঠাকুরগাও সদর, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলায়।
প্রতিটি উপজেলায় কৃষকের নামের গম বরাদ্দের স্লীপ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করে এখন গ্রামে গ্রামে কৃষকের কৃষি কার্ড সংগ্রহ, ব্যাংক একাউন্ট খোলা, চেক সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কৃষি কার্ড আছে। কিন্তু আমরা কখনো সরকারি খাদ্য সংগ্রহে গম ধান বিক্রি করতে পারিনি। ওই গ্রামের আমিরুল ইসলামও একই অভিযোগ করে বলেন, কৃষককে ন্যায্য দাম দিতে সরকার গমে ভুর্তুকী দিচ্ছে কিন্তু সেই টাকা কখনও কৃষকের হাতে পৌছে না। লুটপাট হয় টাকা।
এ জন্য সরকার যদি গম উত্তোলনের সময় সংগ্রহ অভিযান শুরু করে এবং কৃষকদের নাম নির্বাচিত করে তা প্রকাশ করে তবেই কৃষকরা এ সুবিধা পাবে। বেউরঝাড়ি গ্রামের সুধীর চন্দ্র পাল বলেন, গম বিক্রি করে বোরো ধানের আবাদ করেছি। সেই ধান এখন কাটছি। এই সময় যদি গম ক্রয় করে তবে কৃষক কিভাবে দেবে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় খাদ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ দিয়েছে।
তবে জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান বলেন, চলতি সংগ্রহ অভিযানে ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলায় মাত্র ৪ হাজার মে. টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৮ এপ্রিল শুরু হওয়া এ সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে ৩০ জুন। তবে জেলা প্রশাসক ও খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল বলছেন, কৃষি বিভাগের তালিকা অনুয়ায়ী প্রকৃত কৃষদের কাছ থেকে গম নেয়া হবে।
এদিকে গত ১৬ মে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও সফরে এলে সংবাদকর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকের একাউন্টের মাধ্যমে গমের টাকা পরিশোধ করা হয়। সেই টাকা মধ্যসত্ত্বভোগীরা হাতিয়ে নিলে করার কিছু নেই। তবে সরকারের কর্মসুচি সফল করতে খাদ্যবিভাগের কর্মকর্তাদের আরো সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, কৃষকদের কৃষি কার্ড যেন কেউ হাতিয়ে নিতে না পারে এ জন্য চাষিদের সচেতন করতে সংবাদ কর্মীদের কাজ করার আহবান জানান।





