নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের মামলায় সাতদিন কারাবাসের পর জামিন লাভ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত।

বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন তাকে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে এসময় শ্যামল কান্তি ভক্তের স্ত্রী সবিতা হালদার উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামল কান্তি ভক্তের পক্ষের আইনজীবী শাখাওয়াৎ হোসেন জানান, আজ মামলাটির শুনানির ধার্য্য দিন ছিল। তিনিসহ আরো বেশ কয়েকজন আইনজীবি আদালতের কাছে মামলাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে তুলে ধরে জামিনের আবদেন করেছেন। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাড়ানোর জন্যই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। যে প্রভাবশালী মহল শ্যামল কান্তি ভক্তকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন, ওই প্রভাবশালী মহলের কারণেই তাকে মিথ্যা ঘুষ গ্রহণের মামলায় জেলে জেতে হয়েছে। আজ আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি।’

শ্যামল কান্তি ভক্তর স্ত্রী সবিতা হালদার বলেন, ‘আমাদের ওপর অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে। একটি কুচক্রি মহলের মিথ্যা মামলায় আমার স্বামীকে জেল খাটানো হয়েছে। ওই মামলায় জামিনের মধ্যদিয়ে আমরা কিছুটা হলেও সুবিচার পেলাম। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ, তিনি যেন আমার স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাটি খারিজ করে দেয়ার আহবান জানান।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বন্দর পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইংরেজী শিক্ষক মোর্শেদা বেগমকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে দুই দফায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন অভিযোগ করে গত বছর ২৭ জুলাই তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

পরে আদালত বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিলে চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) হারুন অর রশিদ শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধির চারটি ধারায় (১৬১/৪১৭/৪০৬/৪২০) অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২৪ মে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন শ্যামল কান্তি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবদেন করেন। তবে আদালত তার আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।