রমজানের শুরুতেই রংপুরের সিটি বাজারে টাঙানো পণ্যের মূল্যতালিকার সঙ্গে দোকানে বেচাবিক্রির মিল নেই। প্রতিটি পণ্য তালিকার চেয়ে দুই-পাঁচ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য শহরের সবচেয়ে বড় বাজার হলো সিটি বাজার।

এই বাজারে গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙানো মূল্যতালিকার সঙ্গে দোকানপাটে বিক্রি হওয়া পণ্যের মূল্যের কোনো মিল নেই। সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে টাঙানো পণ্যের মূল্যতালিকায় মোটা চাল বিআর-২৮-এর দাম প্রতি কেজি ৪৮ টাকা। কিন্তু এই চাল ওই বাজারেই বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়।

সয়াবিন তেলের মূল্য প্রতি কেজি তালিকায় রয়েছে ৮৪ টাকা, সেই তেল দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকায়। টাঙানো তালিকায় চিনি কেজি ৬৮ টাকা দর লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। খেসারির ডাল দোকানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা। কিন্তু মূল্যতালিকায় তা লেখা আছে ৭০ টাকা। বাজারে এসব পণ্য কিনতে আসা শহরের রাধাবল্লভ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী হোসেন আলী বলেন, ‘গত দুই দিনে বাজার করতে এসে দেখেছি, বাজারে টাঙানো মূল্যতালিকার চেয়ে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেশি।

যেমন চিনি টাঙানো তালিকা থেকে দুই টাকা বেশি দরে কিনলাম।’ আরেকজন ক্রেতা শহরের সেনপাড়ার বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, প্রশাসনকে খুশি করার জন্য এভাবে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখা হয়। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামার কারণে খোলাবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। তাই সকালের টাঙানো তালিকা থেকে কিছুটা অমিল হতেই পারে। সিটি করপোরেশনের বাজার তদারকের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ফরিদউদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তা দেখার আশ্বাস দেন তিনি।