পুলিশের তালিকায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তিনি । চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আলোচিত একটি খুনসহ পাঁচ মামলার পলাতক আসামি লিয়াকতকে ধরতে দিনরাত চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছিলো চট্টগ্রাম পুলিশ ।
সম্প্রতি গনমাধ্যমে পুলিশ জানিয়েছিলো আসামীকে ধরে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযানও চালাচ্ছে কিন্তু তাকে খুঁজেই পাচ্ছে না পুলিশ’ ।
সেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ লিয়াকত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যস্ততম পরীর পাহাড়ের আদালত ভবন এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শপথ নিয়ে আবার নিরাপদে ফিরেও গেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সুত্র জানিয়েছে, বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউপির নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শপথ নেবেন সেই তথ্য আগে থেকেই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের জানা ছিল।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীকে সোমবার শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ অনুষ্ঠানের কথা জেলা পুলিশ আগে থেকেই জানত। সেখানে কারা উপস্থিত থাকবেন সেই তালিকাও পুলিশের কাছে ছিল। লিয়াকতের উপস্থিত থাকার তথ্যও পুলিশের কাছে ছিল। কিন্তু এর পরও তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। অন্য একটি ‘বিশেষ’ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে লিয়াকত আলীকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন তথ্য জানার পর ‘পুলিশ পিছু হটে’।
গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বছরের ৪ এপ্রিল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসী। এতে চারজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হত্যা, অস্ত্র এবং সরকারি কাজে পুলিশকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাগুলোতে লিয়াকত আলীকে আসামি করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, লিয়াকত আলীই সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর উসকানি দিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে খুনসহ পাঁচটি মামলা করে পুলিশ।
লিয়াকত আলীকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভুঁইয়া পুইশের কাছে তথ্য থাকার এমন অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, লিয়াকত পলাতক আসামি। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শপথ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হয়েছেন, এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল না। এ কারণে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার অভিযান চালানো যায়নি। ’
এদিকে, খুনের মামলার পলাতক আসামিকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুনের মামলার আসামি কি না, সেটা আমি জানি না। তিনি নির্বাচিত হয়ে শপথ নিতে এসেছেন। অন্য চেয়ারম্যানদের সঙ্গে শপথ নিয়ে চলে গেছেন। তিনি যদি ফৌজদারি মামলার আসামি হন, তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। ’
প্রসঙ্গত, গত ২৫ এপ্রিল বাঁশখালীর ১৪ ইউপিতে নির্বাচন হয়। এতে আওয়ামী লীগের ৯ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী একজন এবং বিএনপির চারজন প্রার্থী জয়ী হন।





