মাশরাফি বিন মর্তুজার আড্ডাবাজি এবং বন্ধু বাৎসল্যের কথা কার না জানা। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ডানপিটে। বন্ধুদের নিয়ে হই-হুল্লোড়, চিত্রা নদীতে সাঁতার কাটা আর ঘুরে বেড়ানোই ছিল নিত্য কাজ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এসব কিছুর মাঝেই হতো ক্রিকেট খেলা। এতবেশি ডানপিটে যে, এলাকার কোন মেয়ের দিকে ফিরে তাকাবেন, মনের কোনে কোথাও প্রেম উঁকি দিবে, সে সুযোগ কোথায়! স্কুল ফাঁকি দিয়ে খেলে-বেড়ানো, বন্ধুদের নিয়ে দস্যিপনাই তো ছিল তার কাজ।

কিন্তু তবুও মাশরাফির জীবনে প্রেম এসেছিল। একবার নয়, দু’বার। নিজ এলাকা নড়াইলেই। প্রথম প্রেমটি কেন যেন টিকলো না। মাশরাফিও বিস্তারিত জানাননি। দ্বিতীয় প্রেমটিই পরিণয় থেকে প্রনয় সুত্রে আবদ্ধ হয়ে গেছে। সুমনা হক সুমি। মাশরাফির স্ত্রী। স্কুল জীবন থেকেই মন-দেয়া নেয়া। এরপর মাশরাফির জেদের কাছেই হার মেনে দু’ই পরিবার সিদ্ধান্ত নিলেন, দু’জনের জীবনটা এক করে দেবেন।মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রেম কাহিনী এবং বিয়ের অসাধরাণ গল্পই উঠে এসেছে তাকে নিয়ে লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘মাশরাফি’তে। ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যয় রচিত মাশরাফির এই জীবনীগ্রন্থটি ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে। সেই বইতেই ‘এবং বিবাহ’ নামক অধ্যায়ে উঠে এসেছে মাশরাফির প্রেম এবং বিয়ের গল্প… ‘মাশরাফি’ বই থেকে সেই গল্পটাই হুবহু তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য…কৌশিক তখন জাতীয় দলের সঙ্গে কেনিয়ায়। হঠাৎ ঝন ঝন করে বসার ঘরের ফোনটা বেজে উঠলো। ল্যান্ডফোনে কলের আওয়াজ শুনে নাহিদ (মাশরাফির মামা) অনুমান করলেন, এটা কৌশিকের ফোন। ছুটে গিয়ে ফোন তুলতেই কোন ভদ্রতার ধার না ধেরে বলল, ‘মামা, আমি বিয়ে করব।’নাহিদ মামা একটু থতমত খেয়ে গেলেন। ভাগনে দুনিয়ার সবকিছুতেই তার সঙ্গে পরামর্শ করে, গল্প করে। কিন্তু বিয়ে-প্রেম-সংসারের বিষয়ে তো তাদের সেভাবে কখনো কথা হয়নি। আজকালও তাদের এসব কথা বলতে কেমন সংকোচ লাগে।

জড়তা কাটিয়ে পাল্টা বললেন, ‘সে তো ভালো কথা। দেশে আয়। মেয়ে দেখি। ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দিতে হবে তো।’ মাশরাফির কণ্ঠে যেন ভুত ভর করেছে। জেদের ভরে বলে চলেছে, ‘মেয়ে ঠিক করা আছে। তুমি মামির সঙ্গে আলাপ করো। সে সব বলবে নে।’‘কোথায় মেয়ে! কার মেয়ে! দেখতে ভালো তো?’‘অত আমি বলতি পারব না। তুমি মামিরে জিজ্ঞেস করো।’ ‘আচ্ছা জিজ্ঞেস করবো নে। তুই দেশে আয়। আমি মেয়ে দেখি।’ ‘অত টাইম নেই। বিশ্বকাপ সামনে। আমি বিয়ে করে তবে বিশ্বকাপে যাব। তুমি তাড়াতাড়ি যোগাড়যন্ত্র করবা সব।’ ‘কী বলিস বাবা! এত তাড়াতাড়ি হয় নাকি?’ ‘হবে। তুমি চাইলে হবে। আরেকটা কাজ আছে…’-এবার কৌশিকের কণ্ঠটা কেমন যেন আরও ভীতু ভীতু শোনাল। ‘কী?’ ‘বাবাকে রাজি করাতে হবে। আর মেয়েদের বাড়ি রাজি করাতে হবে। এটা তোমার কাজ।’