বিশ্বে প্রতিনিয়ত অবাক করার মত আজব ঘটনা ঘটে যা সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় । এমনি একটি অবাক ঘটনার সাক্ষী হলো ভারতের উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার বদরকা গ্রাম। জানা যায়,ছেলের মৃত্যুর সুবিচার চাইতে পরিবারের ১২ সদস্য নিয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন এক মুসলিম বাবা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার ২০ সদস্যের পরিবারের ১২ জনকে নিয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন আখতার আলীর (৬৮)।স্থানীয় একটি মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
ধর্মান্তরিত হওয়ার পর আখতার নাম পাল্টে রেখেছেন ধরম সিং। তার তিন ছেলেও ধর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নামও পালটেছেন। দিলশানের নাম দিলের, নওশাদের নাম নরেন্দ্র এবং ইরশাদের নাম পাল্টে রেখেছেন কাভি। এছাড়া তিন পুত্রবধূ এবং দুই নাতি এবং চার নাতনিও হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় মহকুমা প্রশাসকের (এসডিও) কাছে হলফনামা দিয়ে আখতার জানিয়েছেন, তার এ ধর্মান্তর স্বেচ্ছায়। এসডিও ঋষিরেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে ছেলের মৃত্যুর তদন্তে পুলিশের ভূমিকায় ওই পরিবার সন্তুষ্ট নয়। আখতারের বিশ্বাস, পুলিশ এবার তার ছেলের মৃত্যু বিষয়টি সুনজরে দেখবে।
যুব হিন্দু বাহিনীর পক্ষ থেকে এটাকে বলা হচ্ছে, ‘ঘর ওয়াপাসি’ বা ঘরে ফিরে আসা। যুব হিন্দু বাহিনীর প্রধান শৌখেন্দ্র খোকর জানান, আখতার হিন্দু রীতি মেনে একটি যজ্ঞ করেছেন।
বাহিনীর জেলা প্রেসিডেন্ট জুগেন্দ্র তমার বলেন, ‘এটা ধর্মান্তরিত নয়, ফিরে আসা। এই পরিবারের পূর্বসূরিরা ৫/৬ প্রজন্ম আগে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। এখন তারা আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছে।’
এদিকে আখতার আলী (বর্তমানে ধরম সিং) বলেন, ‘গত ২৮ জুলাই আমার ২৮ বছর বয়সী ছেলে গুলশান, বাগপাতের নাভাড়া গ্রামে খুন হয়। তার মৃতদেহ এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল যেনো মনে হয় সে আত্মহত্যা করেছে। আমি পুলিশের কাছে বহুবার আর্জি জানিয়েছি এই ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য। আমার কমিউনিটির লোকদেরও আমি পাশে পাইনি।’আমাদের নিজের কমিউনিটির কাছে সাহায্য না পেয়ে আমরা ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি এখন সুবিচার পাবো।’
এ ঘটনার ব্যাপারে বাগপাতে পুলিশ সুপার শৈলেশ কুমার বলেন, ওই পরিবার তাদের চার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছে।ময়নাতদন্তেররিপোর্ট এখনো অসমাপ্ত। পরে কোর্টের মাধ্যমে হত্যা মামলার এফআইআর পেয়েছে। এখন অটোপসি রিপোর্ট বিশেষজ্ঞরা ক্ষতিয়ে দেখছেন। তাদের ওই প্রতিবেদন হাতে পেলে তখন আইনগত ব্যাবসস্থা নেয়া যাবে।




