লেবু আহারে রুচি বাড়ায়-এ কথা প্রায় সবাই স্বীকার করবেন। তাই আয়েশ করে ভূরিভোজের পর্বে একফালি লেবু না হলে আর চলে না। কিন্তু যাদের একটু-আধটু পেটে গ্যাসের সমস্যা রয়েছে কিংবা পেপটিক আলসার রয়েছে, তারা ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
খাবারের সময় লেবুকে এড়িয়ে চলেন। তাদের ধারণা লেবু নিজেই একটি অ্যাসিড, আর এই অ্যাসিড পেটে গ্যাসের উদ্রেক করবে, আলসার বাড়াবে এবং সমস্যাকে আরও প্রকট করবে। এ রকম ধারণা পোষণ করে যারা লেবু খাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন তাদের জন্য একটি সুখবর হল-ধারণাটি ঠিক নয়। অর্থাৎ লেবু খেলে পেটে গ্যাস হয় না বরং তা উল্টো গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। লেবুতে অ্যাসিড আছে-এ ধারণাটি ঠিক, কিন্তু সেই অ্যাসিড কীভাবে পেটের গ্যাস কমায় ও বদহজম দূর করে এবার সেটিই তুলে ধরছি।লেবুতে আছে সাইট্রিক অ্যাসিড।
এই অ্যাসিড পাকস্থলীর সোডিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম সাইট্রেট, পটাসিয়াম সাইট্রেট ইত্যাদি যৌগ তৈরি করে। এদিকে পাকস্থলী থেকে নিঃসরিত হয় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, যার আধিক্য মূলত বুকজ্বালা, গ্যাসের সমস্যার সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে ক্ষারধর্মী সোডিয়াম সাইট্রেট যৌগটি বাড়তি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তাকে নিউট্রিলাইজ করে বা প্রশমিত করে। অর্থাৎ তখন আর অ্যাসিডের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে না। ফলে পেটে বাড়তি গ্যাস জমা হয় না এবং বদহজমও হয় না। এভাবেই লেবু হজমে সুবিধা করে। এ ব্যাপারটি অনেকটা অ্যাসিড দিয়ে অ্যাসিডনাশের মতো। কাজেই লেবু গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়, অ্যাসিডিটি হয়-এ ধারণার বরং উল্টোটিই সত্যি। কাজেই খাওয়ার সময় সঙ্গে একফালি লেবু নিতে পারেন নিশ্চিন্তে।ডা. সজল আশফাকসবাই এখন যা পড়ছে :- লিভার নষ্ট হয় বা পঁচে যায় কেন জানেন? রইলো ৯টি কারণ! মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে লিভার। এরই ফলাফল হিসেবে লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কারণগুলি দেখে নেওয়া যাক: ১. দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক সাইকেলের সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকেএবং তার মারাত্মক বাজে প্রভাব পরে লিভারের উপরে। ২. অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও কুড়েমি করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়েই থাকেন। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। ৩. অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া করা লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর ।
অনেকেই আবাব বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি বেশি করে খেয়ে ফেলেন। এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে। ৪. সকালের খাবার না খাওয়ায় লিভার পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকার কারণে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও। ৫. অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভার নষ্ট হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতার হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতি হয় লিভারের। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। ৬. কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই প্রিজারভেটিভ খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ। ৭. খারাপ তেল ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে। ৮.অতিরিক্ত কাঁচা খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা ফলমূল বা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত খাবেন না। ৯. অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি মূল কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ।




