সাকিব গা বাঁচিয়ে খেলেন, ইচ্ছে করেই চোটাক্রান্ত হওয়ার অভিনয় করেন, ন্যাশনাল টিমের জার্সির চাইতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লোভনীয় তার কাছে- এমনটা ভাবার মানুষের অভাব নেই এদেশে। তাই পাকিস্তানের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে যখন জানা গেল ইনজুরির কারণে সাকিব দলে নেই, চারপাশে শুরু হলো ফিসফাস, অজুত-নিযুত মনগড়া বক্তব্য। অথচ এনটিভির স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বর্ষণ কবির-এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পড়ুন-

যখন আমরা ফাইনাল নিয়ে কথা বলছি,তখন রাজধানীর হাসপাতালে ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে গিয়ে পৌঁছেছিলেন সাকিব আল হাসান। সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের ভিসা না থাকায় তাৎক্ষনিক ভর্তি হন সেখানে। এদিকে আঙুলের ব্যথা বেড়েই চলেছে। চিকিৎসক দেখেই বিস্মিত। এই অবস্থায় কিভাবে খেলা সম্ভব? কোন কাজই করা যায় না! আর অবাক হলাম জেনে, আর কয়েক ঘন্টা দেরী হলেই পুরো হাতই আর কখনো কাজ করতো না। যে হাত বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে, সেই হাত। ইনফেকশন সারাতে তাই পুঁজ অপসারন করা হয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ মিলি পুঁজ। চিকিৎসকরা বিস্মিত, হতবাক। হাসপাতালে এখন সাকিব অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর থাকছেন সাকিব। দেশের বাইরে অন্তত: ৭২ ঘন্টার মধ্যে যাওয়া হচ্ছে না তার।

বাংলা টিভির স্পোর্টস রিপোর্টার দিবাকর বিশ্বাস ফেসবুকে যা লিখেছেন, তা সরাসরি নিচে তুলে ধরা হলো- ‘সাকিব আল হাসানের যে হাত বাংলাদেশকে অনেক দিয়েছে, সেই হাতে পচন ধরেছে’- ব্যাপারটা শুধু একবার ভাবুন। ভাবতে পারছেন? অথচ আরেকটু দেরী হলে তাই হতো!

সাকিব এশিয়া কাপ খেলেছেন ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন নিয়ে। পাকিস্তান ম্যাচের আগে আঙ্গুল ফুলে ঢোল হলো। অবস্থা এমন দাঁড়াল এই ম্যাচ কোনোভাবেই খেলা সম্ভব হলো না। হাত দিয়ে ব্যাট বল ধরতে পারছিলেন না। দুবাই থাকতেই পরিকল্পনা ছিল দেশে ফিরে যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচারের জন্য আমেরিকা ছুটবেন।

কিন্তু ভিসা সমস্যায় আটকে গিয়ে, রাতে অ্যাপোলো হসপিটালে গেলেন অসহ্য ব্যথা নিয়ে। ডাক্তার আঙ্গুলের পুঁজ বের করেছেন। সেই সাথে জানিয়েছেন আরেকটু দেরী হলে এই আঙ্গুল আর কাজ করতো না। পচন ধরত!

সাকিব ভক্ত, সাকিব বেয়াদব, সাকিব অহংকারী: এবার শুরুর ঘটনায় আসা যাক। এশিয়া কাপের আগেই সাকিবের ইচ্ছে ছিল চোট পাওয়া যায়গায় অস্ত্রোপচার করে সুস্থ হবেন আগে তারপর ক্রিকেটে ফিরবেন। কিন্তু বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা জেদ ধরলেন এশিয়া কাপ শেষেই হবে সাকিবের অস্ত্রোপচার। সাকিব একপ্রকার বাধ্য হয়েই বললেন, দেশের জন্য ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন নিয়ে অনেক ম্যাচেই খেলেছি, দলের যখন প্রয়োজন এশিয়া কাপও না হয় খেললাম।

নিজেকে নিয়ে সাকিব এত বড় জুয়া কেন খেললেন? অভিমান? সাকিবের চাপা অভিমান ছিল কিনা কে জানে? তার সবকিছুতেই যে একটা শ্রেনীর এলার্জি। অনেকের সন্দেহ তার ইঞ্জুরিটা আসলেই সত্য তো? নাকি ভান ধরেছেন? টানা খেলে যখন ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম চাইলেন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে, শ্লোগান উঠল সাকিব টাকার জন্য খেলে, দেশের জন্য নয়।

সাকিব আল হাসান, ইনজুরি, সাকিবের আঙুলের চিড়, সাকিব বেয়াদব: এই এশিয়া কাপ দেখুন, টানা খেলে ক্লান্ত বিরাট কোহলিকে ভারত বিশ্রাম দিয়েছে। ব্যাপারটা সাকিবের সাথে হলে কি হতো? তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে যেত। সাকিবের সব কিছুতেই আমাদের সন্দেহ কেন? যে হাত দেশের জন্য বয়ে আনে সম্মান, তাকেই কেন আমরা বিঁধি সন্দেহের তীরে? কেন ভুলে যাই মাঠের ২২ গজের সুপারম্যান সাকিব দিনশেষে আমাদের মতোই রক্তে মাংসের মানুষ!

যে বোর্ডকর্তারা ইঞ্জুরড সাকিবকে এশিয়া কাপ খেলতে বাধ্য করেছে, এই হাতের যদি বাজে কিছু হতো, তার দায়ভার কি তারা নিত? সোনার ডিম পাড়া হাঁসের পেট কেটে একসাথে ডিম বের করার গল্প কি জানেন না তারা? সাকিব আল হাসান, সাকিবের ইনজুরি, সাকিবের নিবেদন, ‘জীবন যেখানে অনেক বড়, ক্রিকেট সেখানে একটা অংশ মাত্র’- কিছু মানুষের এই সত্যটা বোঝা জরুরী।