এটি একটি বৈষম্য প্রশ্ন। মেয়েদেরকে খাটো করার জন্য একটি অহেতুক প্রশ্ন সমাজে উত্থাপন করা হয়েছে। আসলে বাঙ্গালীদের মতো অলস মস্তিঙ্ক পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন দেশে নেই। তাই এরকম অহেতুক চিন্তা-ভাবনা। নয়তো ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ছেলেদের এমন কি বিষয় বস্তু আছে যা ছেলেদের নিত্য দিন ব্যবহার করতে হয় এবং মেয়েদের বছরে একবার ব্যবহার করলেই তাঁদের জীবন অতিবাহিত হয়ে যায়? আপনি খোঁজে পেয়েছেন? সম্ভত যে এমন প্রশ্নের উদ্ভাবক সে নিজেও জানে না। তবে আমি একটি বিষয় খোঁজে পেয়েছি যা নিচের লাইনে আছে।

দ্বিতীয়ত্বঃ এই ধাঁধা প্রশ্নটি ভুল। যদি ধাঁধা প্রশ্নটি এরকম ভাবে হতো যে ছেলেরা করে প্রতিদিন আর মেয়ে ৩,৫,৭, কিংবা ১০ দিনে করে একবার তাহলে এই ধাঁধার প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়ঃ গোসল। কেননা মেয়েদের মতো ছেলেদের গোসল না করার মতো বাধ্যকতা বা স্বাস্থ্যগত সাময়িক সমস্যা নেই। তাই ছেলেরা প্রতিদিন গোসল করতে পারলে মেয়েরা মাসের সব সময় সব দিন গোসল করে যেতে পারে না।

তৃতীয়ত্বঃ এই ধাঁধার প্রশ্নের উত্তরটি এভাবেও দেওয়া যায়। আর তা হচ্ছে, সহবাস। ছেলেরা সন্তান লাভের প্রক্রিয়াটি হয়তো অনেকে প্রতিদিন করেন আর মেয়েরা সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে বছরে এক বার সম্পন্ন করেন।ত্ত্ব

চতুর্থঃ ছেলেরা প্রতিদিনই শুক্রাণু উৎপাদন করতে পারে কিন্তু মেয়েরা বছরে একবারই সন্তান গর্ভ ধারণ করতে পারে।

পঞ্চমঃ ছেলেরা প্রতিদিনই কবর স্থানে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু মেয়েরা বছরে একবারই কবর স্থানে প্রবেশ করতে পারে আর তা হচ্ছে মৃত্যুর সময়।

এই প্রশ্নের সূত্রপাত…

“এই ধাঁধাটির সূত্রপাত হয়েছিলো মধ্যপ্রাচ্যে, আরবি ভাষায়। আর সঠিক অনুবাদে প্রশ্নটি ছিলো- “কোন জিনিস ছেলেরা প্রতিদিন করতে পারে কিন্তু মেয়েরা আজীবনে মাত্র একবার করতে পারে?” আরবি ভাষায় বানান কিংবা উচ্চারণে সামান্য হেরফের হলেই তার অর্থ পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দুর্ভাগ্যবশত এর ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই, ইংরেজিতে অনুবাদের সময় কিংবা পরবর্তীতে কোনোভাবে প্রশ্নটি মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে অযৌক্তিক একটি প্রশ্নে রুপ নেয়। আরবি ভাষায় থাকা মূল প্রশ্নটির উত্তর “কবরস্থানে যাতায়াত”, ছেলেরা প্রতিদিন কবরস্থানে যাতায়াত করতে পারে কিন্তু মেয়েদের কবরস্থানে যাওয়া নিষিদ্ধ। শুধু মৃত্যুর পরই তারা সেখানে যেতে পারে। আরবদের প্রেক্ষাপটে এই উত্তর সঠিক কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। প্রশ্নটি বিতর্কিত হওয়ার পিছনে এটাও আরেকটি কারন। শুধু এই প্রশ্নটিই নয়, এরকম আরও কিছু প্রশ্ন আছে যা কিনা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে গেলে গাঁজাখুরি টাইপের মনে হবে। উদাহরণস্বরুপ, মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেকটি ধাঁধা- উত্তরটা হলো কাফনের কাপড়, যা কি না ধবধবে সাদা আবার কবরের ভেতর নিকষ কালো। কিন্তু এই প্রশ্ন যখন ইংরেজিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটির মতো এটিও একটি অবান্তর প্রশ্নে পরিণত হয়। প্রশ্নটিকে এর বর্তমান অরিজিন থেকে কল্পনা করলে এর সঠিক উত্তর পাওয়া যাবেনা, তবে সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর হলো এই সিস্টেমটি মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একবার ডিম্বাণু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে সিস্টেমটি বিরামহীনভাবে প্রায় সারাজীবন ধরে শুক্রাণু উৎপাদন করতে থাকে।” লাল কালারের এই অংশটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা।

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, আমরা বিষয়টির উপরে আপনার মনের কৌতুহল মেটানোর চেষ্টা করেছি এবং বিষয়টি উপরে ভিত্তি করে আমাদের সামনে যা এসেছে তা শালীন ভাষার মাধ্যমে আপনার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এসম্পর্কে আপনার যদি কোন ভালো জানা বা ধারণা থাকে, তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে তুলে ধরুন।