দেশে বা প্রবাসে আমরা সবাই কমবেশী গ্যাস্ট্রিক এ ভুগি। আর বিদেশে কর্মরত প্রবাসী ভাই বোনেরা একটু বেশী গ্যাস্ট্রিক পেট জ্বালা বুক জ্বালায় ভুগি। গ্যাস্ট্রিক হলে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়, আপনি যদি গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন ইনশা আল্লাহ্ কিছু নিয়ম আর সবার ঘরে থাকে আদা ও আলু তা দিয়েই চেষ্টা করুন ফল পাবেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গ্যাস্ট্রিক হলে খিদে কম পায়, পেটে গ্যাস হয় এবং বুক জ্বালা করে, পেটের মাঝখানে চিনচিনে ব্যথা হতে পারে। বুক ও পেটে চাপ অনুভূত হয়, হজমে অসুবিধা হয়, বারবার বমি হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক হলে কী করতে হবে ? আর গ্যাস্ট্রিক কী কারণে হয় ? উত্তর অনিয়ম আর আমাদের খাওয়া দাওয়া সমস্যার কারনে এটি সূত্রপাত ঘটে। গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কারনে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে, পেট সব সময় ভরাট মনে হতে পারে, পেট জ্বালা পোড়া, বদ হজম হতে পারে ইত্যাদি। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে কিছু বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে। আর এই সবই হলো ঘরোয়া উপায়।
গ্যাস্ট্রিকের জম আদার, কী ভাবে ? জেনে নিন, আদাতে এমন কিছু উপাদান আছে যার কারনে আপনার বদ হজম, জ্বালা পোড়া, বুকে ব্যথা কমে যেতে পারে। কী ভাবে আদার ব্যবহার করবেন নিচে দেওয়া হইলো।
বন্ধুগণ, ২টি পদ্ধতিতে আদা খেতে পারেন, ১ম পদ্ধতি – আদা কুচি কুচি করে কেটে পানির মধ্যে মিশিয়ে তারপর পানি ফুটান। পানি ফুটানো হলে তা ১০ মিনিটের মতো নামিয়ে রাখুন এবং দিনে ২/৩ বার চায়ের মত পান করুন । এটির সাথে মধু মিশালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
২য় পদ্ধতি আরো সহজ আদা বেটে বা ব্লান্ডার দিয়ে রস করুন এবং এটি মধুর সাথে মিশিেয়ে দুপুর ও রাতের খাবারের আগে খেয়ে নিন। আর আপনার যখন ইচ্ছা হয় তখন একটু আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার শরীর ঠান্ডাও থাকবে।
পেট জ্বালা পোড়া হলে টক দই বা মিষ্টি দই খেতে পারেন আপনি প্রতিদিন একটু করে দই খান। দই পেটের ব্যাকটেরিয়া দূর করে। ব্যাকটেরিয়া হলো গ্যাস্ট্রিক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। দই মধু আর কলা একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খেতে পারেন ভাল ফল পাবেন।
এবার আলুর রস করে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় কী ভাবে জেনে নিন, আলুর রসের ব্যবহার কী ভাবে করবেন বা বানাবেন তা শিখিয়ে দিচ্ছি, প্রথমে আলু বেটে বা ব্লান্ডার দিয়ে রস করে নিন। এরপর আলুর রস আর গরম পানি একসাথে মিশিয়ে প্রতিদিন দুপুর ও রাতের খাওয়ার ২ ঘন্টা আগে খেয়ে নিন। দেখবেন চমৎকার উপকার পাবেন, চেষ্টা করবেন কিছু আমি কিছু করে দেখেছি প্রবাসে থেকে।
এবার পানি নিয়ে কিছু লেখি, পানি হচ্ছে আল্লাহ্র অশেষ নেয়ামত, পানির ওপর নাম জীবন আর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পানির ব্যবহার। কী ভাবে আসুন জেনে নেই।
আপনাকে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে একদম খালি পেটে পানি পান করবার অভ্যাস করতে হবে, অনেকে পারে না যেমন আপনাদের ভাবী মানে আমার বউ রিতুমনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পান করুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ পার করলেই ইনশা আল্লাহ্ ভাল ফল পাবেন।
এবার লিখছি প্রবাসে যারা থাকে তাদের জন্য, প্রবাসী ভাইয়েরা আপনাদের কিছু খাবার বেঁছে চলতে হবে আর দেশে যারা আছেন তাদেরকে ও বলি আপনারাও নিচে দেওয়া খাবার গুলো কন্ট্রোল করুন ও নিয়ম গুলো মেনে চলুন। এই ২০টি নিয়ম গুলো মেনে চলুন তাহলে গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাবেন, সুস্থ্য থাকবেন ইনশা আল্লাহ্। আসুন জেনে নিন উপায় গুলো।
১) মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা অনেক সময় এসব সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই মানসিক চাপ নেবেন না।
২) প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে দুপুর ও রাতের খাবার খাবেন।
৩) বমি হলে শক্ত খাবার কম খাবেন। পানি ও পানিজাতীয় খাবার বেশি খান।
৪) বেশি চিনিজাতীয় পানীয় কম খাবেন।
৫) ঘুমানোর কমপক্ষে ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নেবেন।
৬) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেট খারাপ বা বমির ওষুধ কিনে খাবেন না।
৭) তাজা খাবার খান, স্টোর করা বা ফ্রোজেন ফুড কম খাবেন।
৮) শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমান। নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৯) ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
১০) অতিরিক্ত তেল ও মসলা দেওয়া খাবার খাবেন না।
১১) বাইরের খাবার না খেয়ে বাড়ির তৈরি খাবার খান।
১২) একবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে বারবার খান।
১৩) তৈলাক্ত খাবার বাদ দিতে চেষ্টা করুন। খেতে হলে খাবার আগে বা পরে পানি খাবেন না। অন্তত ৩০ মিনিট পরে এক গ্লাস পানি পান করুন।
১৪) দিনে কিংবা রাতে খাওয়ার পরপরই অনেকে শুয়ে পড়তে পছন্দ করেন। এটা না করে কিছুক্ষণ আস্তে আস্তে হাঁটাচলা করতে পারেন অথবা বসে থাকতে পারেন সোজা হয়ে। অন্তত ৩০ মিনিট পর ঘুমাতে যান।
১৫) সাইনাসের সমস্যা না থাকলে ঠাণ্ডা পানি পান করুন। আবার খুব বেশি ঠাণ্ডা যেন না হয়। তবে গরম পানি পান না করাই মঙ্গলজনক।
১৬) ভাত খাওয়ার আগে এক বা দুই গ্লাস পানি পান করুন। তারপর ভাত খান। খাওয়ার পরপরই অনেক বেশি পানি পান করার প্রবণতা বাদ দিন। ভাত খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।
১৭) প্রতিদিন খাবারের মেন্যুতে অন্তত একটি হলেও যেন ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার থাকে, তা নিশ্চিত করুন। সেটা ল্যাক্সিটেভ হিসেবে কাজ করবে। দূর করবে কোষ্ঠকাঠিন্য। এতে গ্যাস তৈরি হবে না। যেমন- শাকসবজি, কলা, ঢেঁড়স ইত্যাদি।
১৮) সরাসরি গ্লুকোজ অর্থাৎ চিনি যথাসম্ভব কম খান। যদি খেতেই হয় চেষ্টা করুন গুড় দিয়ে চিনির অভাবটা পূরণ করতে।
১৯)অনেকে রাতে খাওয়ার পর আইসক্রিম খেতে পছন্দ করেন। এটাও বাদ দিন।
২০) মাংস, ডিম, বিরিয়ানি, মোগলাই, চায়নিজ খাবার যা-ই খান না কেন, তা দুপুরের মেন্যুতে অন্তর্ভুক্ত করুন। রাতের খাবারটি যেন হালকা হয়। শাকসবজি, ছোট মাছ এসব দিয়ে রাতের মেন্যু সাজান।
সকলে ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন এই কামনায় বিদায় নিচ্ছি আর এখানে যেসব সাস্থ্য টিপস পরলেন তা কিছু আমিও করি আর এই টিপস গুলো অনেক ভাল ভাল লেখকের কাছ থেকে নিয়ে আমার মত করে লিখলাম কারণ সহজ ভাবে যেন আপনারা বুঝতে পারেন, তথ্য গুলোতে ভুল নেই যদি লেখায় বানান ভুল হলে ক্ষমা করবেন আমি আহমেদ রানা সৌদি থেকে – যদি এই লেখা পড়ে উপকার পান তাহলে আমার বাবা ও মায়ের জন্য দোয়া করবেন আর যারা এই তথ্য গুলো যাদের কাছ থেকে পেয়েছি তাদের জন্য মনে থেকে দোয়া করবেন।





