আর কিছুক্ষণ পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ হারের পর প্রথম ওয়ানডে জয় দারুণ জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাশরাফি বাহিনী। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে জয় দেখতে দেখতেও মাত্র ৩ রানে হেরে যায় তামিম-মুশফিকরা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আজ যদি প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে বাংলাদেশ, তবে শেষ হবে দুই বছরের অপেক্ষা। ২০১৬ সালের অক্টোবরে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ইংল্যান্ড। এর আগেই অনেকটা অনাড়ম্বরে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে খেলতে এসেছিল আফগানিস্তান।

প্রথম ম্যাচে অনেক উত্তেজনার জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘটেছিল এর ঠিক উল্টো। এবারও অনেক নাটক হলো তবে এবার শেষ হাসিটা হাসল সফরকারী দল। সিরিজের শেষ ম্যাচটা তাই হয়ে উঠল সিরিজ নির্ধারণী। সে ম্যাচে তামিম ইকবালের অনবদ্য ইনিংসেই মীমাংসা হয়ে গেল সবকিছু। ওয়ানডেতে শততম জয়ের আনন্দটা তৃপ্তি বাড়াল সিরিজ জয়ের।

এত ঘটা করে সে সিরিজের রোমন্থন চলছ কেন? কারণ, দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজে সেবারই সর্বশেষ ট্রফি উঁচিয়েছে বাংলাদেশ। টানা ছয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের উপমহাদেশীয় রেকর্ড গড়া বাংলাদেশ হঠাৎ করেই সিরিজ জয়ের পথটা হারিয়ে ফেলেছে। এর মাঝে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজই অবশ্য হয়েছে মাত্র একটি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সুবর্ণ এক সুযোগ হাতছাড়া করার দায়ে সিরিজই হেরে গেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা দুই সিরিজে তো ধবল ধোলাই হতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২০১৭ সালের মার্চে প্রথম ম্যাচে জিতেও পরে সিরিজ ড্র করে ফিরেছে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় ঘরের মাটিতে। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জয় পেলে কীর্তিটা তাই আরও বড়। কারণ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ হয়তো দুই বছরের পুরোনো। প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের স্বাদ? সে স্বাদ যে বাংলাদেশ কখনো পেয়েছে, এটাই ভুলে যাওয়ার দশা।

সেই কবে ২০০৯ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল সাকিব ও তাঁর দলবল। এর আগে জুলাই মাসেই দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবল ধোলাই করে এসেছিল বাংলাদেশ। এর পর দুবার জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েও সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ!

আজ কি এক ম্যাচেই দুই পাখি মারতে পারবে বাংলাদেশ? ভুলবে দুই এবং নয় বছরের হতাশা?