এই নিয়ে পঞ্চমবারের মত বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করলেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।এরমধ্যে ৩ বার টি-টোয়েন্টিফরম্যাটে, ২ বার ওয়ানডেতে।শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে আবারো বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করেন মুশি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

২০১১ সালে হারারেতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেয়া ২৫১ রানের টার্গেটে মুশফিকুরের ব্যাটিং নৈপুন্যে শেষ ওভারে ৮ রানের জয়ের সমীকরণ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

উইকেটে ৯৮ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশি। শেষ ওভারের প্রথম বলে ২ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন। তবে পরের ডেলিভারিতেই তিনি আউট হলে শেষ পর্যন্ত ওইম্যাচে ৫ রানে হারে বাংলাদেশ।

এরপর ২০১৩ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬৯ রানের টার্গেট পায় বাংলাদেশ। শামসুর রহমানের ৫৩ ও সাকিব আল হাসানের ৬৫ রানে ম্যাচ জয়ের পথেই ছিল টাইগাররা।

শেষ পর্যন্ত ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায়৬ বলে ১০ রান। ২৮ রান নিয়ে উইকেটে ছিলেন মুশফিক। এমন ম্যাচের শেষ ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন তিনি।পরের পাঁচ বল থেকে তিন রান নিতে পারে ব্যাটসম্যানরা।

ম্যাচটি ৬ রানে হারতে হয় লাল-সবুজের দলকে!‍২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটা ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকদিন কষ্ট দিয়ে যাবে।সুপার টেনের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করে ১৪৬ রান করে ভারত। এরপর ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট ইনিংসে শেষ ওভারে ম্যাচ জয়ের বাংলাদেশের দরকার পড়ে ৬ বলে ১১ রান । উইকেটে ছিলেন দুই সেট ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

মাহমুুদুল্লাহ ১৭ ও মুশফিকুর ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।ভারতের মিডিয়াম পেসার হার্দিকপাণ্ডিয়ার করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডেলিভারি থেকে ২ বাউন্ডারিতে৮ রান তুলে জয়ের পথ অনেকটাই পরিস্কার করে ফেলেন মুশফিক।

তবে চতুর্থ ডেলিভারিতে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। পরের ডেলিভারিতে একই জায়গায় ক্যাচ দিয়ে আউট হন মাহমুদুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ১ রানে পরাজয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বাংলাদেশ! ভিলেন সেই মুশফিক!

চলতি বছর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এক ম্যাচে শেষ ওভারে আবারো মুশফিকের নার্ভাসনেসের কারণে জয় বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য টার্গট ছিল১৪৬ রানের।

এইম্যাচেও মুশফিক-মাহমুুদুল্লাহর শেষ ওভারের ভীতিতে ম্যাচ হারতে হয় বাংলাদেশকে।শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রান প্রয়োজন ছিল। মুশফিকু৪৬ ও মাহমুদুুল্লাহ ৪৩ রান নিয়ে উইকেটে সেট ব্যাটসম্যান।

আফগানিস্তানের রশিদ খানের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে মুশফিকুর আউট হয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন। শেষ পর্যন্ত ১ রাানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ৪৫ রানে অপরাজিত থেকেও বাংলাদেশের হার এড়াতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ।

শেষ ওভারে ব্যর্থতার পাশাপাশি সাফল্যও আছে মুশফিকের। ক্যারিয়ারে পাঁচবার রান চেজিংয়েবড় বা ছোট ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছেন মুশফিক।

টেস্টে ও টি-টোয়েন্টিতে দুইবার এবং ওয়ানডেতে একবার ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ইনিংসে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন উইকেটকিপারএইব্যাটসম্যান। কঠিন বিপদে স্নায়ুচাপ নিতে দক্ষ তিনি।

কিন্তু লক্ষ্য ছোট থাকলে, খেলা হাতের মুঠোয় থাকলে,শেষ ওভারে তার কী যেন হয়ে যায়! হয়তো নিজের টেম্পারমেন্ট ধরে রাখতে পারেন না। তাই ‘হিরোইজম’ দেখাতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ৮ রান। উইকেটে ৬৮ রান নিয়ে সেট ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন ‘মি ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত এই ব্যাটসম্যান! মুশফিকের শেষ ওভারের ভীতিতে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ৩ রানে হেরে আবারো বাংলাদেশের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো।

গায়ানায় ২৭২ রানের টার্গেটে ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ১৪৫ রান তুলে ম্যাচ জয়ের লড়াইয়ে টিকে ছিল বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেটে মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দলের জয়ের পথ পরিস্কার করতে থাকেন মুশফিক। শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের সমীকরণদাঁড়ায় ৩০ বলে ৪০ রান।

কিন্তু ৪৬তম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদুল্লাহ বিদায় নিলে দলকে জয় এনে দেয়ার দায়িত্ব পড়ে মুশফিকের ঘাড়ে। সাব্বিরকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ২৩ বলে ৩২ রান যোগ করেন মুশি।

শেষ ওভারের বাংলাদেশের জয়ের সমীকরন ৮ রানে নিয়ে আসেন মুশি। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে আবারো বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করেন মুশি