আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্র গঠিত হয় বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্র নিয়ে। বৃহদান্ত্র গঠিত হয়ে থাকে একটি কোষপূর্ণ নালী দিয়ে যাকে বলা হয়ে থাকে মলাশয় অথবা কোলন। এর প্রধান কাজ হলো আমাদের গ্রহনকৃত খাদ্য ক্ষুদ্রান্ত্রে চলে যাবার পরে সেটা থেকে পানি ও লবণ সংগ্রহ করা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মলত্যাগের ক্ষেত্রে এই মলাশয় অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও মলাশয় আমাদের গ্রহনকৃত খাদ্যের মাঝে পরিপাককৃত ও অপরিপাককৃত খাদ্য শোষণের কাজ করে।

বেশ কিছু প্রক্রিয়ার মাঝে দিয়ে শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভূমিকা পালন করতে হয় এই অন্যতম অঙ্গটিকে। যার ফলে, সময়ে সময়ে এই অঙ্গটির সঠিক উপায়ে পরিষ্কার হবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কীভাবে পরিষ্কার রাখতে পারবেন আপনার মলাশয়কে? জেনে নিন জাদুকরী এক পানীয়ের রেসিপি।

যা লাগবে
আধা কাপ আপেলের রস। দুই চা চামচ লেবুর রস। এক চা চামচ আদার রস। আধা চা চামচ লবণ। আধা কাপ পরিমাণ পানি।

প্রণালি:
সকল উপাদান একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পরিমাণ এই মিশ্রণ পান করতে হবে। এছাড়াও এই মিশ্রণ আরো দুই গ্লাস তৈরি করে দুপুরের পর ও সন্ধ্যা ৬ টার পর এক গ্লাস করে খেতে হবে। সবচাইতে ভালো হয় একদিনের মাঝে এই মিশ্রণ পাঁচ গ্লাস পরিমাণ পান করতে পারলে। এতে করে পেট ও মলাশয় ভালোভাবে পরিষ্কার হবে। তবে এই মিশ্রণ পান করার পূর্বে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেওয়া ভালো যদি ডায়াবেটিস বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকে ও গর্ভবতী হয়ে থাকেন।

পরিপাকের জন্য আদার উপকারিতা
মাইগ্রেন, ঠাণ্ডার সমস্যা, হাইপার, বমিভাব এবং আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যার ক্ষেত্রে আদা অন্যতম দারুণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। ডিটক্স ওয়াটার তৈরিতে আদার পানীয় খুব চমৎকার কাজ করে থাকে। যা একইসাথে পরিপাক ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যার ক্ষেত্রে উপকারী। এছাড়াও কোষের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও এটা খুব ভালো কাজ করে থাকে।

পরিপাকের জন্য লেবুর উপকারিতা
লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং অনেক উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ। প্রাকৃতিক এই উপাদান কুসুম গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করার ফলে পেটের ফাঁপাভাব, বুক জ্বালাপোড়া ভাব এবং অ্যাসিডিটির সমস্যার ক্ষেত্রে খুব কার্যকরি ভূমিকা পালন করে থাকে।

পরিপাকের জন্য আপেলের উপকারিতা
আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা খাদ্য সঠিকভাবে পরিপাকের ক্ষেত্রে খুব দারুণ কাজ করে। এটা কারোর গ্রহণকৃত খাদ্য উপাদান থেকে কম পরিমাণে শর্করা শোষণ করে এবং শরীর কোলেষ্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও, আপেলের খাদ্য আঁশ সমূহ অন্যান্য খাদ্য উপাদান থেকে পুষ্টিগুণ শোষণ করতে এবং পরিপাককৃত খাদ্য মলাশয় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সাহায্য করে থাকে।