ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবল খেলোয়ার কে? জানতে চাইলে অনেকেই বলে দেবেন ফুটবল ‘জাদুকর’ লিওনেল মেসির নাম। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে অনেক শিরোপাই জিতেছেন মেসি। কিন্তু, দেশের হয়ে জাতীয় দলের জার্সি পড়ে কোনো ট্রফিই জেতেননি এই আর্জেন্টিনাইন সুপারস্টার। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

শিরোপার খরা ঘুচাতে রাশিয়া বিশ্বকাপকে ৩২ বছর বয়সী মেসির শেষ সুযোগ বলে মনে করেছিলেন ফুটবলবোদ্ধারা। মেসি নিজেও এমনটা চেয়েছিলেন। কিন্তু, এবারও হলো না। রাশিয়াও তাকে খালি হাতেই ফেরাল। গ্রুপ পর্বে কোনো রকমে পার হলেও শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মেসিকে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই আরও একবার গুঞ্জন ওঠে, তাহলে কি এটাই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসির শেষ বিশ্বকাপ? যদিও এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি মেসি।

তবে ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী তারকা মারিও কেম্পেসের মনে করেন, মেসির উচিত, বিশ্রাম নেওয়া। খবর টিওয়াইসি স্পোর্টস।

তিনি একথাও জানান, প্রয়োজন পড়লে পরবর্তী সময়ে মেসিকে আবারও ডেকে নেয়া হবে। দিন দুয়েক আগে মেসিদের কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা ১৯৭৮-এর বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা কেম্পেস এমনটাই জানিয়েছেন।

কেম্পেস আরও মনে করেন, আর্জেন্টিনার বর্তমান দল নিয়ে আর কোনো কিছু জেতা সম্ভব নয়!

সাবেক এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা মারিও কেম্পেসের ভাষ্য, ‘লিওনেল মেসিকে অবশ্যই জাতীয় দল থেকে বিশ্রামে পাঠানো উচিত। কেননা, সে এখন আর পারছে না। আর্জেন্টিনায় যেসব খেলোয়াড় আছে তাদের নিয়ে আমাদের পরবর্তী মিশনের জন্য নেমে পড়া উচিত। এরপর প্রয়োজন পড়লে তাকে (মেসি) ডেকে নেয়া যাবে।’

১৯৭৮-এর বিশ্বকাপজয়ী তারকা মারিও কেম্পেস। কেম্পেস মনে করেন, গোটা আর্জেন্টিনা দলকেই এখন ঢেলে সাজানো উচিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন নতুন করে সব সাজানো উচিত। গত ১০ বছর ধরে এই একই দল খেলছে। কিন্তু সাফল্যের ভাণ্ডার এখনো শূন্য। এখানেই শেষ, এদের চক্রপূরণ হয়েছে। এখন অন্যান্য নতুন খেলোয়াড়দের খোঁজ করা উচিত।’

বর্তমান দলে মেসির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণেই যত সমস্যা বলে জানিয়ে কেম্পেস আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এখন মেসি বলতে পাগল। সে এই দলের প্রাণভোমরা। যেদিন মেসি ব্যর্থ হয়, সেদিন অন্য কেউ দলের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিতে পারে না। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আমি ব্যক্তিত্ববোধ ও সাহসের কমতি দেখতে পাই।’