উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই জানা যায়! তাই এই দেশের ফার্স্ট লেডীও একটা রহস্যময় চরিত্র! জনগণের সামনে তিনি খুব কমই হাজির হোন এবং তার নাম রি সল-জু, বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের স্ত্রীদের মত তাকে আমরা টিভি চ্যানেলে তেমন একটা দেখতে পাই না। মজার ব্যাপার হলো তার সত্যিকারের বয়স কত এটা নিয়েই বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য নেই। কিন্তু তবুও এই রহস্যময় নারীর জীবন নিয়ে কিছু তথ্য খুঁজলেই পাওয়া যায়।

আমরা আজ আপনাদের জানাবো উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং এর স্ত্রী রি সল-জু নিয়ে কিছু মজার তথ্য, যা হয়তো আপনার জানা নেই! 

রি সল-জু কোরিয়ার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবির সন্তান!

উত্তর কোরিয়ার চংজিন শহরে ডাক্তার এবং শিক্ষক দম্পতির ঘরে জন্ম নেন রি সল-জু। তার সম্ভাব্য জন্মসাল ধারণা করা হয় ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ এর মধ্যে। তার মানে হলো রি সলের বয়স ২৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে।

প্রথমাবস্থায় তিনি একজন চীয়ারলীডার ছিলেন!

কিম জং কে বিয়ের আগে সে কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পিয়ংইয়ং এর কিম ২য় সাং বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর কোরিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে এশিয়ান এথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপে তিনি উত্তর কোরিয়া দলের সাথে ছিলেন।

তিনি বেশ ভাল গানও গাইতেন!

রি সল-জু গান গাইতে খুব পছন্দ করেন এবং চীনে তিনি গান শিখতে গিয়ে বেশ কয়েকবছর কাটিয়েছেন। উনহাসু অর্কেস্ট্রাতে গান গাওয়ার সময় তিনি কিম জং এর চোখে পড়েন।

রি সল-জু তিন সন্তানের মা

গণমাধ্যমে বিশ্বাস করা হয় এই মহিলা ২০১০ থেকে ২০১৩ এর মধ্যে দুইবার দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন এবং ২০১৭ সালে একটা পুত্র সন্তানের। কিন্তু এই পুত্র সন্তানের মা হতে রি সল-জু চান নি, তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই পুত্র সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে। কোরিয়ান গোয়েন্দা বিভাগ বলছে বংশের হাল ধরতে একটা ওয়ারিশ দরকার ছিল আর এক প্রকার শাস্তি হিসেবেই তাকে তা নিতে হয়েছে।

রি সল-জু একজন বিপ্লবী

রি সল-জু উত্তর কোরিয়ার একমাত্র ফার্স্ট লেডী যে কিনা চুলের স্টাইল অন্য সবার মত না করে একেবারে ছোট করে রেখেছে। এর আগের যত প্রেসিডেন্ট ছিলেন সবার স্ত্রী লম্বা চুলের অধিকারী ছিল। পশ্চিমা পোশাক আশাকের উপর তার আকর্ষণ অনেক, যেমন তার ব্যাগের সংগ্রহে শানেল কিংবা ডিওর ব্র্যান্ডের দেখা মিলে। উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের বাধ্যতামূলক ব্যাজ না পরে তিনি পরেন দামী একটা ব্রোচ!

কোরিয়ান মেয়েদের বাড়তি স্বাধীনতা দিতে তিনি তার স্বামীকে প্ররোচিত করেছেন!

স্বামীর অফুরন্ত কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা থাকা সত্বেও তিনি তার মন গলাতে সক্ষম হয়েছেন। কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার মেয়েদের প্যান্ট, জিন্স, কালো আঁটসাঁট পোশাক পরার অনুমতি দিয়েছেন। অনুমতি দিয়েছেন হাই হিল এবং প্ল্যাটফর্ম জুতা পরার। মেয়েরা আগে সাইকেল চালাতে পারতো না কিম সেটারও অনুমতি দিয়েছেন।

আপনার কাছে এই নারীকে কেমন মনে হয়েছে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।