জীবিকার তাড়নায় এখন অনেক মানুষই নিজের দেশ ছেড়ে যায় অন্য দেশে। বিশেষ করে ইউরোপের মদ্ধে ঢোকার জন্য যেন সবাই আগ্রহ নিয়ে থাকে। এমনকি সেখানে যেতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন না অনেকে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ইউরোপে পাড়ি দেবার পর্বটা শুরু হয় মূলত ইউরোপের দেশগুলোতে ভাল আয়, উন্নত জীবন, ব্যবসা করার সুবিধা, সহজেই বৈধ হওয়ার সুযোগ—এমন সব অবাস্তব স্বপ্ন দেখে। তবে সেই স্বপ্নের অপমৃত্যু হয় প্রতারক-দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে। কখনোবা প্রাণ হারিয়ে।

সম্প্রতি দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে নৌকায় সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে সাতদিনে কয়েক দফা নৌকা ডুবিতে ৩৫ বাংলাদেশি অভিবাসী মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক বাংলাদেশি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে ৭০জনের বেশি বাংলাদেশিসহ প্রায় পাঁচশ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হয় লিবিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া চারটি ট্রলার।

এর মধ্যে একটি ট্রলার দুই দিন পর লিবিয়া উপকূলে ফেরত গেলে ৩৫ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মধ্যসাগরে ২০ বাংলাদেশির সলিলসমাধি হলেও বাকি ১৫জন কূলে এসে প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখার চান্দগ্রামের ফারুক হোসেন ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার ইমন নামের দুই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে দেশটির রাজধানী ত্রিপলিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের শ্রম সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এর বেশি কিছু বলতে চাননি।

এখন প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিরা চাচ্ছেন যাতে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি না করে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

গত আগস্ট মাসের জাতিসংঘের জরিপে দেখা গেছে, আফ্রিকান নারী-পুরুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তিন নম্বরে রয়েছে।

নৌকাডুবির ঘটনায় বড়লেখা ও বিয়ানীবাজারের একাধিক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিনে ওই দুই তরুণের বাড়ি গেলে তাদের পরিবারে আহাজারি চলতে দেখা যায়।

ইমনের ছোটভাই ঝুমন জানান, গত ৩ মাস আগে তার ভাই দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি জমান। ইমনকে ইউরোপ পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক দালাল তাদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর পর দালাল অনেকের সঙ্গে তার ভাইকেও সাগরপথে নৌকায় ইউরোপ পাঠায়।

এর আগে বড়লেখার চান্দগ্রামের নিখোঁজ তরুণ ফারুকের বড়ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা সালিক আহমদ বলেন, নৌকায় ইউরোপ যাত্রার পর থেকে তার ভাইয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। দালালও ফোন বন্ধ করে রেখেছে।

ভাইয়ের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছেন তার পরিবাবের স্বজনেরা।

উল্লেখ্য, ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে লিবিয়া সরকার তাদের দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। দেশটি দাবি করেছিল, অনেকে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিল।

অন্যরা যারা ইউরোপে অবৈধভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু লিবিয়ার দুর্বল রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকের জন্য ভূমধ্যসাগর দিয়ে পাচারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে দেয়। এখন ক্রমশ বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি এই পথে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছে।