এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ফাইনাল এখন অনেকটাই নিশ্চিত।পাকিস্তান ও ভারতকে হারানোর পর টানা তৃতীয় ম্যাচেও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

শনিবার শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে তুলনামূলক দুর্বল দল মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে।তবে এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খুব একটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ।সেই বাংলাদেশের মেয়েদের এশিয়া কাপে এমন দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারণ কী?

এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়েদের দলেরই সাবেক সহকারী কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “এই দলটির মেয়েরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করে এবং এখনকার এই ফলাফল তাদের কষ্টেরই ফল”।তিনি বলেন, মেয়েদের এই দলটি একসাথে অনেক দিন খেলছে এবং এর ফলে তাদের মধ্যে চমৎকার একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে যার প্রতিফলন ঘটছে খেলাতেও।

“আবার কিছু খেলোয়াড় বাজে সময় কাটাচ্ছিলো, এবার তাদের ফর্মে ফিরে আসতে দেখা গেছে। যেমন সালমা খাতুন, রোমানা, কোবরার মতো খেলোয়াড়রা তাদের পুরনো ফর্মে ফিরেছেন বলেই দল ভালো ফল পাচ্ছে”।অন্যদিকে আরেক ক্রিকেট কোচ সারোয়ার ইমরান বলছেন যে একটি মাত্র টুর্নামেন্ট দিয়েই দলটি অনেক উন্নতি করেছে সেটি বলা যাবেনা কারণ এ টুর্নামেন্টের আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তারা খুব একটা ভালো করতে পারেনি।

তবে মনে রাখতে হবে দলটির জন্য সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। নেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও। মেয়েরা অনেক পরিশ্রম করে নিজ উদ্যোগে। সেটার ফল তারা পাচ্ছে। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই”।

মি: ইমরান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং মেয়েদের দলটিকে নিয়েও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।তার মতে, “এ বছর মেয়েদের প্রিমিয়ার লীগ পর্যন্ত হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ না পেয়েও মেয়েরা এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানকে হারিয়েছে এটি দারুণ বিষয়”।অথচ মেয়েদের এই দলটির ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আরও অনেক উন্নতি সুযোগ আছে এবং তারাও সেটি করতে আগ্রহী। কিন্তু সেই সুযোগটি তারা মোটেও পাচ্ছেনা বলেই মনে করেন সারোয়ার ইমরান।

মেয়েদের শুরুর দিকের কোচ পারভীন সুলতানা পুতুল বিবিসি বাংলাকে বলেন সম্প্রতি এ দলটির কোচিং টিমে কিছু মানসম্পন্ন ভারতীয়কে আনা হয়েছে তাদের হাত ধরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দলটিতে।

তিনি বলেন, “এ মূহুর্তে দলটি সেরা ক্যাপ্টেনের হাতে আছে পাশাপাশি ক্রীড়া পল্লীতে তাদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধাও নিশ্চিত হয়েছে যার ফলে তারা বেশি ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে পারছে”।তবে এশিয়া কাপের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত ক্যাম্প করে নতুন খেলোয়াড়দের বের করে নিয়ে আসা এবং বেশি বেশি ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

ভালো কোচিং ও দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অভিজ্ঞতাঃ

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সাথে, তবে তিনি তার নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি।তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অভিজ্ঞতা আর ভালো কোচিং স্টাফ পাওয়ার কারণে দলে পরিবর্তন এসেছে।

“কোচিং স্টাফ থেকে দারুণ গেম প্লান পাচ্ছি আমরা। ভারত এই প্রথম বারের মতো এশিয়া কাপে হারলো আমদের কাছে। আগে ব্যাটিং এ আমাদের সাহস কম ছিলো – এখন সেটাও বেড়েছে। ওপেনাররা দারুণ শুরু করছে আর মিডল অর্ডার ফিনিশ করছে সুন্দর ভাবে”।এবারের জয়কে কোন অঘটন মানতে রাজী নন এই খেলোয়াড়।

তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই জানতাম ব্যাটিংয়ে উন্নতি হলেই আমরা জিতবো। কেউ যেন মনে না করে এই জয় কোন অঘটন ছিল, আমরা কিন্তু ভালো খেলে জিতেছি”।