গত ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে ভারত যান। গতশনিবার রাতে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ভারত সফর নিয়ে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে বিকেল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এসময় নির্বাচনের বছর আওয়ামী লীগ বার বার ভারতের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন

জিয়াউর রহমান ভারতে যায় নাই, খালেদা জিয়া যায় নাই। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান ভারতে গিয়েছিলো। ক্ষমতা দখলের ২ বছরের মধ্যেই ভারতে গিয়েছিল জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়া একবার ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে বলেছিলো ‘গঙ্গার পানির কথা’ ওটাতো ভুলেই গিয়েছিলাম। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা তাকে (রিজভী) এক বালতি পানি পাঠাতে বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ওরা তো বললো আমি এক বালতি পানিও আনতে পারিনি। এক বালতি পানি রিজভীকে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। একজনকে দায়িত্ব দাও ওকে কয়েক বোতল পানি পাঠিয়ে দিক। রোজার মাস, কাজে লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাকে ক্ষমতায় আনবে কী আনবে না সেটা জানি না। ২০০১ সালে আমেরিকান কোম্পানি এখানে গ্যাস উত্তোলন করেছিল এখানে, সেই গ্যাস বিক্রি করবে ভারতের কাছে। আমি কিন্তু রাজি হয়নি, খালেদা জিয়া লিখে দিয়ে এসেছিলে। আমি বলেছিলাম গ্যাসের মালিক এ দেশের জনগণ।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মুচলেকা লিখে দিলো গ্যাস বিক্রি করবে ক্ষমতা এলো। আমি শুধু বললাম আল্লাহ্ মন বুঝে ধন দেয়।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীকে এ সফরে ডি.লিট ডিগ্রিতে সম্মানিত করে।

এজন্য অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি পুরস্কার আরও পেয়েছেন, আরও পাবেন, কিন্তু যে পুরস্কারের প্রাপ্য আপনি, তা এখনও পাননি, সেটা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। এজন্য এখন থেকেই প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানাই।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পুরস্কারের জন্য প্রবৃত্তি নেই, কেবল দেশের মানুষের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাওয়ার তুলে দেওয়াই আমার লক্ষ্য। তাছাড়া কোনো পুরস্কারের জন্য লবিস্ট নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্যও নেই আমার। বরং টাকা থাকলে আমার গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দু’দেশের মধ্যকার যৌথ নদী কমিশনে আলোচনা চলছে। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, এতে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কথা হয়েছে কি-না, প্রশ্ন করা হলে সরকারপ্রধান বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়েছি বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনে, সেদিকেই আমাদের গুরুত্ব ছিল। আর তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আমাদের দু’দেশের যৌথ নদী কমিশন আছে, সেখানে আলোচনা চলছে।

এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক সমাজে একটা ব্যাধির মতো। কিন্তু আজকে যখন মাদক বিরোধী অভিযান চলছে তখন আপনারাই আবার বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন।

তিনি বলেন, অভিযানে এপর্যন্ত যতোগুলো ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে একটা ঘটনাও যদি কেউ দেখাতে পারে যেখানে অনিয়ম হয়েছে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এপর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযানে ১০ হাজারের মতো গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু পত্রিকাগুলো গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরে না।

মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গডফাদার বলতে আপনারা কাকে বুঝাতে চাইছেন তা আমি জানিনা। তবে এর সাথে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না। যেই গডফাদার থাকুক বা যে বাহিনীই থাকুক সেটা দেখা হবে না।

প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিম বাংলায় দুদিনের সরকারি সফর শেষে ২৭ মে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের পশ্চিম বাংলা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত অতিথি হিসেবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তিনিকেতনে সদ্যনির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন এবং সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। দেশে ফেরার আগে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি পরিদর্শন করেন।