আরব দেশগুলোতে কুরঅনের আলোকে রাষ্ঠ পরিচালনা করা হয় ।তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দেশ সৌদি আরব।সৌদিতে কোন অপরাধই ছোট করে দেখা হয় না এবার কঠোর নতুন আইন করতে যাচ্ছে সৌদি সরকার যৌন হয়রানি বন্ধের লক্ষে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া ওই খসড়া আইনে যৌন হয়রানির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কট্টর রক্ষণশীল মুসলিম দেশটির যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের ধারাবাহিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

কয়েক সপ্তাহ পরই নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের আধুনিকায়ন ও অর্থনীতিতে তেল রফতানি নির্ভরতা কমানোর জন্যও কাজ করছেন সৌদি যুবরাজ। যৌন হয়রানি বন্ধে আইন প্রণয়নে সোমবার সৌদি আরবের সুরা কাউন্সিলের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে যৌন হয়রানির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার তা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

সুরা কাউন্সিলের সদস্য লতিফা আল সালানকে উদ্ধৃত করে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, খসড়া বিলটি সৌদি আরবের আইনের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আরও বলেন, এটার মাধ্যমে একটি বড় আইনি শূন্যতা পূরণ হলো। যৌন হয়রানি রোধে এটা একটা বড় উদ্যোগ।
গত বছর নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব যা আগামী ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। এই উদ্যোগ দেশটির প্রগতিশীলতার লক্ষণ প্রকাশ করছে।

তবে কিছুদিন আগে ১১ জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে যাওয়া সুপরিচিত কর্মীরাও আছেন ।

আটককৃতরা অনেক দিন ধরে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার ও রক্ষণশীল দেশটির পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন।

সৌদি আরব সরকারের অভিযোগ, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সন্দেহমূলক যোগাযোগ চালানো জন্য এসব আন্দোলন নারীকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া ও দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে ।তারা আন্দোলনের নামে দেশে অরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন ।