সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সৌদি নারীরা গাড়ি চালানো ও স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অনুমতি পেয়েছেন। হলে গিয়ে চলচ্চিত্রও দেখতে পারছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রায় এক মাস ধরে যুবরাজকে দেখাই যাচ্ছে না। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তার এই অদৃশ্যতাকে পুঁজি করেও চলছে মৃত্যু গুজব। আর সেই গুজবে ঘি ঢালছে সৌদি কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকাণ্ডও।
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে অন্তত সাত নারী অধিকার কর্মীকে আটক করেছে সৌদি সরকার। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ), গালফ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (জিসিএইচআর) ও এইচআরডব্লিউর বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর জানাচ্ছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
তবে মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন যে, সৌদি নারীদের কণ্ঠরোধ করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেমটির বাতাসে এও ভাসছে, যুবরাজ সত্যিই নিহত হয়েছেন। নাহলে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ কাজ করতে পারতো না। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে অবশ্য বলা হয়, ‘বিদেশি শক্তি’র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই ওই নারীদের গ্রেপ্তর করা হয়েছে।
সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিঃশত্রুর সঙ্গে সন্দেহজনক যোগাযোগ ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও একই কথা বলা হয়েছে।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, গত ১৫ মে থেকে এ পর্যন্ত সাত নারী অধিকার কর্মীকে আটক করেছে সৌদি আরব। আটকের শিকার নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা বাতিল ও নারীদের জন্য পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা বিলোপের দাবি জানিয়ে আসছেন।
নারীদের গাড়ি চালানো বন্ধের প্রতিবাদই তাদের অপরাধ। তাদের মধ্যে লওজেইন আল-হাথলওল ও এমান আল-নাফজান নামে দুই নারী রয়েছেন, যারা নারীদের গাড়ি চালানো বন্ধের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন।
দেশটিতে পুরুষ অভিভাবকত্ব প্রথা থাকায় নারীরা নিজের ইচ্ছেমত বিয়ে করতে পারেন না, একা একা বিদেশে যেতে পারেন না এবং পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন না।
যুবরাজের সংস্কারের অংশ হিসেবে সৌদি সরকার গত সেপ্টেম্বরেই নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার দেওয়ার ঘোষণা করেছিল। যদিও সেটি কার্যকর হওয়ার কথা আসছে জুন থেকে। তবে যুবরাজের মৃত্যু গুজব সত্যি হলে সেটা আটকে যাবে বলেই মনে করছেন অনেকে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সিনেমা হলও।





