বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একটি সাফল্য হচ্ছে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। অন্য এক মাত্রায় পা রাখল আমাদের সোনার দেশ বাংলাদেশ। এ নিয়ে সবার মাঝে উত্তেজনাও কাজ করছে কম না। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সেই উত্তেজনার মাঝেই হঠাৎ বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ থেমে যায়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান স্পেসএক্স। তবে আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ থেকে ৪টা ১৪ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উৎক্ষেপণের পরবর্তী সময় নির্ধারন করা হয়েছে। এর আগেও বার বার উত্তেজনা ছড়িয়ে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে সময়-তারিখ।

এদিকে মহাকাশে স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যর্থ হওয়ারও অনেক নজিরও রয়েছে। এর আগে চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ভারতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কোন ঝুঁকি নেই। এটি বীমার আওতায় রয়েছে।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসকে। অনেক ধরনের ঝুঁকি থাকলেও তবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বীমার আওতায় রয়েছে। কোন দুর্ঘটনা যদি ঘটেও আর্থিক বিষয়গুলোর দায়িত্ব নেবে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। আমাদের কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না, বাড়তি টাকা খরচ হবে না। শুধু আবারও প্রস্তুতি নিতে যে সময় নষ্ট হবে।

এদিকে বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়।

এদিকে গতকাল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তগুলো কম্পিউটার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। হিসেবে যদি একটুও এদিক সেদিক পাওয়া যায়, তাহলে কম্পিউটার উৎক্ষেপণ থেকে বিরত থাকে। আজ যেমন নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪২ সেকেন্ড আগে নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। স্পেসএক্স সবকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আগামীকাল একই সময়ে আবারও আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবে। যেহেতু এই ধরণের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া যায় না, সেহেতু উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুবই সাধারণ বিষয়, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ বিষয়ে বলেছিলেন, শেষ মিনিটে মাত্র ৪২ সেকেন্ড আগে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে, বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই কাল (শুক্রবার দিবাগত রাত) যেন ভালোভাবে উৎক্ষেপণ হয়।’

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অরল্যান্ডের স্থানীয় একটি হোটেলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, স্যাটেলাইটের সব কিছু কম্পিউটার দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে, মানুষের কোনো হাত থাকে না। উৎক্ষেপণকালে কম্পিউটার দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেস্ট করে হঠাৎ দেখা গেল কোনো একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে জন্য তারা এটি স্থগিত করল।

তিনি আরও বলেন, এখানে যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি বলেছেন- স্যাটেলাইট ও রকেট ঠিক আছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই। গ্রাউন্ড সিস্টেমে হয়তো সামান্য ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এটা নতুন কোনো ঘটনা না, এখানে এর আগেও কিছু স্যাটেলাইট ছয়বারের মাথায় উৎক্ষেপণ করতে হয়েছে।এছাড়া বারবার তারিখ পরিবর্তনে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হব না ও যতক্ষণ সমস্যা হবে তারা (স্পেসএক্স) খরচ বহন করবে বলেও জানান শাহজাহান মাহমুদ।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সকল তথ্য-

মহাকাশে কেনা হয় কক্ষপথ:

১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি অরবিটাল স্লটে (নিরক্ষরেখায়) উড়বে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট বা নিরক্ষরেখা (১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব) লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে এ স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের মধ্যে চুক্তি হয়। ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হলেও এ চুক্তি তিন ধাপে ৪৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান:

স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের বাধা:

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) বাংলাদেশকে প্রথমে নিরক্ষরেখার ১০২ ডিগ্রি স্লট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ তাতে বাধা দেয়। দেশগুলোর আপত্তির মুখে বাংলাদেশ বিকল্প উপায় খুঁজতে থাকে। বিকল্প হিসেবে ৬৯ ডিগ্রিতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তাব দেওয়া হয় বাংলাদেশকে। কিন্তু বিকল্প প্রস্তাবেও আপত্তি তোলে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীন। সর্বশেষ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে (পূর্ব) স্লট বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ স্লটটিও খালি ছিল না। স্লটটি ছিল ইন্টারস্পুটনিকের। কিন্তু অর্থের সংস্থান না হওয়ায় রাশিয়ার মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইন্টারস্পুটনিকের নিজস্ব দুটি স্লটের বিপরীতে (৮৪ ও ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি) একটি শর্তহীন চুক্তি করে বাংলাদেশ।

উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ও উৎক্ষেপণকারী রকেটঃ

মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ করে থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস গত ৩০ মার্চ একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি পৌঁছে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে উড়বে ‘ফ্যালকন ৯’ রকেট।

অর্থায়ন:

প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে ১৫৪৪ কোটি টাকা, বাকি ১৩৫৮ কোটি টাকা হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) বিডার্স ফিনান্সিং এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

পরিচালনায় কোম্পানি গঠন

এই কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষেপণের পর সেটি পরিচালনা, এর বিভিন্ন সুবিধার সফল ব্যবহার, বাণিজ্যিকভাবে এর ট্রান্সপন্ডার বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কোম্পানিতে কারিগরি লোকবল নিয়োগ এবং লোকবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

দেশীয় অর্থ সাশ্রয়:

বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও ইত্যাদি সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন স্যাটেলাইট অপারেটরের কাছ থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবদ প্রতি বছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় করে থাকে। অনুমোদন পাওয়া আরও স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হলে এ ভাড়া আরও বাড়বে। শুধু ব্রডকাস্টিং চাহিদার পূরণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে এ অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হবে। তখন এই অর্থ প্রতি বছর রাজস্ব হিসেবে আয় হবে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ট্রান্সপন্ডার বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচার সেবার প্রসার সহজ হবে:

প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচার সেবার প্রসার সহজ এবং বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। এছাড়া দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

উৎক্ষেপণ বিদেশ থেকে হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকে:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়। যা নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের যন্ত্রপাতিও আমদানি করেছে বিটিআরসি।

ব্রডকাস্টিং সেবায় খরচ কমবে:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া ছাড়াই প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক কম মূল্যে ব্রডকাস্টিং সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

এদিকে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হল বাংলাদেশ। এর আগে বিভিন্ন দেশ প্রায় দুই হাজারের বেশি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া স্যাটেলাইট, পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট, নেভিগেশন স্যাটেলাইট ইত্যাদি। তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হল যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট। টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাসহ বহু সুফল আসবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ স্যাটেলাইট থেকে মানুষ চার ধরনের সুফল পেতে পারেন।

প্রথমত, এ স্যাটেলাইটের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয় দুটিই করা যাবে।

দ্বিতীয়ত, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে অপটিক ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবল পৌঁছায়নি সেসব জায়গায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা সম্প্রসারণ করা যাবে।

তৃতীয়ত, এর সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। চতুর্থত, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে এ স্যাটেলাইট। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও স্যাটেলাইটটি কাজে লাগানো যাবে।

বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আর্থ স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণের পর প্রায় ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটি তার নিজস্ব কক্ষপথে পৌঁছবে। এ জন্য সময় লাগবে ৮-১১ দিন। আর পুরোপুরি কাজের জন্য প্রস্তুত হবে ৩ মাসের মধ্যে। এরপর প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার (ফ্রান্সের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান) সহায়তায় এটির দেখভাল করবে বাংলাদেশ। পরে পুরোপুরি বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতেই গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় আর্থ স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এটি।

অপরদিকে উৎক্ষেপণের পরপরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নিবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তেলীপাড়ায় টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় এ ধরনের আরেকটি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সেটি হচ্ছে গাজীপুরে স্থাপন করা গ্রাউন্ড স্টেশনের বিকল্প। মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হবে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই। শিগগিরই প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।