ভারতের কুমারগ্রামের গৃহবধূ তাপসী দাসের ভ্রূণ হত্যা করে নৃশংস মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মৃতার শ্বশুরবাড়ির ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত তাপসীর স্বামী রঞ্জিত দাস, শাশুড়ি খিচা দাস, শ্বশুর শুকরু দাস, ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

দুই দেওর ধাঙরু দাস এবং শ্যামল দাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ (বধূ নির্যাতন) এবং ৩১৩ ধারায় (ভ্রূণ হত্যার) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ধৃতদের বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হলে সকলকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ১৭ মে ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।

তাপসীর বাবা ধনেশ দাস জানিয়েছেন, ‘‘মেয়ের নৃশংস মৃত্যুর সুবিচার চাই। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তা না হলে মেয়ের প্রতি সুবিচার হবে না। আমরা কারও কাছে মাথা নত করব না। শেষ দেখে ছাড়ব। নিম্ন আদালতে সুবিচার না পেলে উচ্চ আদালতে যাব।’’

এদিকে কুমারগ্রামে মৃত তাপসীর বাড়িতে রীতিমতো শোকের ছায়া। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা তো বটেই, অন্যান্য জেলার মানুষও ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।এই ঘটনায় শাসক দলের নেতারা ভোটের মুখে কার্যত চাপে পড়ে তাপসীর মৃত্যুকে নিয়ে সমবেদনা না জানিয়ে পারেননি। তাঁরাও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন।

আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, প্রথমে তাপসী কুমারগ্রাম থানায় নিজের জবানবন্দিতে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করতে না চাওয়ায় কেস শুরু করেনি থানা। যদিও মৃত্যর পরে তাপসীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সক্রিয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।