কক্সবাজারে তাসফিয়া হত্যা ঘটনার সন্দেহের তীর এখনও আদনান মির্জার দিকেই রয়েছে। রহস্যের বাতাস কোন দিকে দোলে তা এখনও বুঝা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে বিকৃত এক কিশোর সমাজের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

জানতে পারা যায়, স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেমিক আদনান মির্জাকে আটক করেছে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। ঘটনার ১৫ ঘন্টা পর নগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। আটক আদনান মির্জা চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার পদুয়া এলাকায় ব্যবসায়ী ইসকান্দর মির্জার ছেলে। আদনানের বাসা নগরীর দক্ষিণ খুলশীর মুরগী ফার্ম এলাকার জালালাবাদ আবাসিকের রয়েল পার্ক বিল্ডিংয়ে। এদিকে আদনানকে আটকের পর পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে আদনান স্বীকার করেন, সে ফেসবুক ভিত্তিক ‘গ্যাংস্টার রিচ কিডস গ্রুপের প্রধান।

আদনানের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পতেঙ্গা থানার ওসি তদন্ত গাজী মো. ফৌজুল আজিম বলেন, তাসফিয়া ও আদনান আগে একই সাথে সানসাইন স্কুলে পড়তো। তখন তাদের সাধারণ চেনা-জানা ছিলো। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে আদনান বাংলাদেশ এ্যালিমেন্টারি স্কুলে ভর্তি হয়। ভিন্ন স্কুলে আদনান পড়াশুনা করলেও গত একমাস ধরে আদনানের সাথে তাসফিয়ার যোগাযোগ বেড়ে যায়, যা অনেকটা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।

বিষয়টি তাদের পরিবারও জানে। গত তিন দিন আগে এ নিয়ে আদনান ও তাসফিয়াকে শাসায় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। এরপরও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এমনকি তাসফিয়ার ফেসবুক আইডিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও তাসফিয়া তার ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ করে আদনানের সাথে। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাসফিয়া বাসায় কিছু না বলে আদনানের সাথে বের হয়ে যায়।

এরপর আর বাসায় ফিরেনি। এ নিয়ে সন্ধ্যায় আদনানকে কল দেয়া হলে তিনি তাসফিয়ার বাবার সাথে দেখা করেন। সেও তাসফিয়ার বাবার সাথে তাসফিয়াকে খোঁজাখুজি করেন। পরে রাত ১০ টার পর থেকে আদনান নিজের মোবাইল বন্ধ করে সরে যায়। পরদিন বুধবার (২মে) সকালে তাসফিয়ার লাশ পতেঙ্গা সী বিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দুপুরে নগরীর মুরাদপুর থেকে আদনানকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে বুধবার রাতে আদনানকে পতেঙ্গা পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আদনান জানান, সন্ধ্যায় নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়নাগ্রিল রেষ্টুরেন্টে তাসফিয়াকে নিয়ে নাস্তা করার পর তাসফিয়া একটি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় তাসফিয়া বলেন, ও আর নিজাম রোডের ৫নং সড়কে তাসফিয়ার এক বান্ধবীর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবেন। এরপর থেকে সে আর কিছুই জানে না।

তবে অন্য তাসফিয়ার পারিবারিক সূত্রের অভিযোগ, আদনান দীর্ঘদিন ধরে ‘রিচ কিডস’ নামের কিশোর অপরাধ গ্রুপের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাসফিয়া যে সিএনজি অটোরিক্সাতে উঠে তার পেছনে ছিল দুটি মোটর সাইকেলসহ চার যুবক।

এ চারজন যুবক আদনানের গ্রুপের সদস্য। আদনানের সাথে তাসফিয়ার সম্পর্ক তার পরিবার মেনে না নেওয়ায় আদনানই তার গ্রুপের সদস্যদের হাতে তুলে দেন তাসফিয়াকে। পরে নিজের দোষ আড়াল করতে ওইদিন রাত ১০টা পর্যন্ত তাসফিয়ার পরিবারের সাথে থেকে তাসফিয়াকে খুঁজতে থাকে। রাত ১০টার পর আদনান তাসফিয়ার পরিবার থেকে সরে গিয়ে নিজের মোবাইল বন্ধ রাখে। পরদিন পুলিশী অভিযানে সে আটক হয়।

এসব বিষয়ে তাসফিয়ার চাচা নুরুল আমিন জানান, আদনানের চরিত্র আগে থেকে খারাপ আমরা জানতে পারি। তাকে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক বুঝানো হয়েছে। এরপরও সে তাসফিয়ার পিছু ছাড়েনি। সে রিচ কিডস নামের ওই গ্রুপের সাথে জড়িত সেটা আমরা আগেও শুনেছি। তাসফিয়া সিএনজি অটোরিক্সাতে উঠার পর তার পেছনে অনুসরণ করতে থাকা দুইটি মোটরসাইকেলে চার যুবক কারা, এ তথ্য বের হলেই আসল ঘটনা জানা যাবে বলে তিনি জানান।

নুরুল আমিন আরো জানান, তাসফিয়ার ময়না তদন্ত শেষে তার বাবা তাসফিয়ার লাশ গ্রহণ করবেন। তিনি আদনানের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য বের করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন।