যে বয়সে লেখাপড়া আর খেলাধুলার কথা ছিলো সে বয়সে অভাবের তাড়নায় কিছুই হয়ে ওঠেনি কুলসুমের। তার মা ও বড়বোন সুমাইয়া মানুষের বাড়িতে কাজ করে। বাসার রান্না-বান্না থেকে বাকি সব করতে হয় কুলসুমকেই। অভাগী কুলসুম মাত্র ৪০ দিন বয়সেই বাবাকে হারান। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এতো কষ্টের পরেও দুঃখ নামক বস্তুটা যেন কুলসুমের পিছু ছাড়তে রাজি হয়নি!

প্রতিদিনের মতো উঠোনের কেরোসিনের চুলায় রান্না করছিলো কুলসুম। রান্না শেষে চুলা নেভানোর সময় হঠাৎ তার ওড়নায় আগুন লেগে যায়। পরে চিৎকার শুনে ঘর থেকে তার মা ছুটে এসে আগুন নেভায়। কিন্তু ততক্ষণে কুলসুমের ওড়না থেকে আগুন তার জামায় লেগে যাওয়ার ফলে তার মুখের এক অংশ ও শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়।

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে।

কামরাঙ্গীর চরের লোহার ব্রিজ এলাকার মনির চেয়ারম্যানের গলিতে শহীদুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে কুলসুমের পরিবার। টিনসেড একটি ঘরে থাকেন মা মেয়ে তিনজন। কুলসুম এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ২০% পুড়ে গেছে। শরীর থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছে, তাই তার শরীরে অন্তত আট ব্যাগ রক্ত দেয়া প্রয়োজন।

কুলসুমের বোন সুমাইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছে ‘ও’ পজিটিভ রক্ত চাইছেন। এভাবে ৫ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করা সম্ভব হলেও আরো রক্ত লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সুমাইয়া বলেন, বাবা যখন চলে যান তখন আমি কুলসুমের থেকেও ছোট। তখন থেকেই মার সাথে বাসা বাড়িতে কাজ করি। লেখাপড়া করার সৌভাগ্য হয়নি। কুলসুমেরও পড়াশোনা হয়নি। আমরা বাইরে কাজ করতাম আর এই বয়সে মেয়েটা ঘরের সব কাজ করতো। কোনো কিছু শিখিয়ে দিতে হয়নি। ঘরের সব কাজ ও নিজেই শিখেছে। কে জানতো ঘরের কাজ করতে গিয়ে আমার বোনটার এ অবস্থা হবে।

কুলসুম বলেন, আমি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরতে চাই। সারা শরীরে অনেক জ্বালা করে খুব কষ্ট হয় সহ্য করতে। মনে হয় মরে যাবো।

আর এ অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে, ডাক্তাররা আসলেই কুলসুম আবেক জড়িত কন্ঠে বার বার জিজ্ঞাসা করে, ‘স্যার, আমি বাঁচব তো?’