ঘটনায় আহত গৃহকর্মী জানান, শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) রফিক হাজীর স্ত্রী ভাতে পোড়া দাগ লেগেছে অভিযোগ তুলে খুন্তি দিয়ে আমাকে সারা শরীর মেরে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত করে এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয়। আমি মৃত্যু যন্ত্রনায় চিৎকার করতে থাকলেও রফিক হাজীর ভয়ে কেউ আমাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসাতে সাহস করেনি। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৌর বালু ব্যবসায়ী হাওলাদার সেনেটারীর মালিক মো: রফিক হাজীর (বালু রফিক) স্ত্রী কতৃক নির্যাতনের অভিযোগ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।তবে এবার যৌনাঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয় গৃহকর্মীকে (১৫),

আমাকে ঘরে আটকিয়ে রাখলে আমি বাঁচার তাগিদে গাছ বেয়ে পালিয়ে এসে ডাইবেশন রোডে হেলালের বাসায় আশ্রয় নিলে আমার বাবা খোঁজাখুঁজি করে বিকালে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জানা যায়, হতদরিদ্র কৃষক পিতার ৪ মেয়েকে নিয়ে অভাব অনটনে সংসার চলছিলো। সংসারের ঘানি টানতে না পেরে কৃষক বাবা তার তৃতীয় কন্যাকে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বালু ব্যবসায়ী রফিক হাজীর বাসায় ১১ মাস আগে গৃহকর্মীর কাজে দেয়।

তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারবে এই আশায় পিতার ঘর ছেড়ে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে আসে ওই গৃহকর্মী। কিন্তু সেখানেও মেলেনি সুখ-শান্তি। কাজে যোগদানের পর থেকেই রফিক হাজীর স্ত্রী পাখি বেগম কারণে অকারণে মারধর করতো তাকে।

ওই গৃহকর্মী জানায়, ‘আমাকে মেরে আহত করে হুমকি দেয় যে যদি কাউকে বলি তাহলে, আগে আমাকে উলঙ্গ করে যে ছবি তোলা হয়েছে তা ইন্টানেটে ছড়িয়ে দিবে। আমি ভয়ে কাউকে বলতে সাহস করিনি’।

এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: তৈয়বুর রহমান জানান, তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের দাগ এবং গোপনাঙ্গে অনেক গুলো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি পরবর্তীতে যদি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তাহলে ভোলা প্রেরণের ব্যবস্থা করব।

এ ব্যাপারে রফিক হাজীর মোবাইলে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার (০১৭৪০৯৯১৭৪৪) নম্বরটি বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা প্রণয়নের পরে সরকার তা বাস্তবায়নে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন, কোন গৃহকর্মীর নির্যাতনের সংবাদ পেলে সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং নির্যাতনকারীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রয়োজনে নির্যাতিতাকে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সে অনুযায়ী গৃহকর্মীকে চিকিৎসাসহ সার্বিক সহায়তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদানের দাবি করেছেন ভোলার দুস্থ প্রতিবন্ধী পঙ্গু ফাউন্ডেশনের কর্নদার এম ইউ মাহিম চৌধুরী।

এ ব্যপারে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার সিকদার বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় রফিক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-৩৪।

তিনি আরো বলেন, আমি ঘটনা শুনে নিজেই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের বক্তব্য শুনে মর্মাহত, ঘটনাটি খুবই আমানবিক। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।