বিশ্বের অন্যতম সেরা বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরমেন্সে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেয়েছে তার দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ১৩ রানে হারায় স্বাগতিক দল।
ম্যাচ শেষে সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেনঃযে সকল পিচে ১৮০ – ১৯০ রান হয় সে পিচে আমরা ভাল খেলছি না, কিন্তু এমন লো স্কোরিং ম্যাচে আমরা দুর্দান্ত খেলছি। আমরা আমাদের ব্যাটসম্যানদের থেকে আরও ভাল আশা করছিলাম, এই পিচে ১৫০-১৬০ একটা লড়াই করার মত স্কোর হত। পাঞ্জাব দুর্দান্ত বোলিং করেছে, কিন্তু আমরা লড়াই করে গেছই। এত ছোট টার্গেট ডিফেন্ড করতে পারা আমাদের জন্য ভাল। আমরা পাওয়ার প্লেতে ভাল বল করতে না পারলেও শেষের দিকে এসে দুর্দান্ত বোলিং এ ম্যাচ জিতে যাই। ব্যাটিং এ আমরা আরও ভাল করতে চাই। বোলাররা তাদের রোল ভাল ভাবে পালন করেছে। আমরা আমাদের এমন গভীর বোলিং লাইনআপের জন্য গর্বিত। এবং সাকিব রশিদরা আমাদের যেভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে তা সত্যিই দুর্দান্ত। আমরা আমাদের এই জয়ের ধারা সামনের ম্যাচেও ধরে রাখতে চাই।টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩২ রান সংগ্রহ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে এদিন তেড়েফুঁড়ে ব্যাট করতে দেখা যায়নি হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যানদের। ডানহাতি ব্যাটসম্যান মানিশ পাণ্ডে জেগে ওঠার আগ পর্যন্ত ধুঁকছিল হায়দরাবাদ। পাঁচে নেমে মানিশকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাকিব, যদিও তার ইনিংসটিও ছিল ওয়ানডে মেজাজের। তিনটি চারের সহায়তায় ২৯ বলে ২৮ রান সংগ্রহের পর মুজিব উর রহমানের বলে মায়াঙ্ক আগারওয়ালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। এর একটু পর সাজঘরে ফেরেন ৫১ বলে ৫৪ রান করা মানিশও। শেষদিকে ইউসুফ পাঠানোর ১৯ বলে ২১ রানের ইনিংস দলকে এনে দেয় উইকেটের বিবেচনায় লড়াকু এক পুঁজি। পাঞ্জাবের পক্ষে অংকিত রাজপুত একাই শিকার করেন পাঁচটি উইকেট।জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিতই দিচ্ছিল পাঞ্জাব। তবে দলীয় ৫৫ রানে ৩২ রান করা লোকেশ রাহুল বিদায় নিলে শুরু হয় বিপর্যয়। ব্যাট হাতে নৈপুণ্য প্রদর্শনের পর সাকিব জাদু দেখান বল হাতেও। দলের অন্য বোলারদের দারুণ বোলিংয়ের দিনে ছড়ি ঘোরান সাকিবও। দলীয় ৭৭ রানে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও ৮৮ রানে অ্যারন ফিঞ্চকে সাজঘরে ফেরান তিনি। চার ওভারের কোটা পূরণ করতে না পারলেও যে তিন ওভার বল করেছেন, তাতে এই দুই উইকেট শিকারের পাশাপাশি দিয়েছেন মাত্র ১৮ রান। পাঞ্জাবের পক্ষে ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল করেন ২৩ রান। রশিদ খান শিকার করেন তিনটি উইকেট। সাকিবের মতো দুটি করে উইকেট শিকার করেন সন্দ্বীপ শর্মা ও বাসিল থাম্পি। পাঞ্জাবের ইনিংস থামে মাত্র ১১৯ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরহায়দরাবাদ ১৩২/৬ (২০ ওভার); মানিশ ৫৪, সাকিব ২৮, ইউসুফ ২১*; রাজপুত ১৪/৫; মুজিব ১৭/১
পাঞ্জাব ১১৯/১০ (১৯.২ ওভার); লোকেশ ৩২; গেইল ২৩, রশিদ ১৯/৩, বাসিল ১৪/২, সন্দ্বীপ ১৭/২, সাকিব ১৮/২
ফল- হায়দরাবাদ ১৩ রানে জয়ী।





