স্ট্রোক যেকোন সময় যে কোন বয়সের ব্যক্তির সাথে হতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের পুরুষের তুলনায় স্ট্রোকের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি বেশী থাকে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আমরা স্ট্রোকের কিছু তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ব্রেস্ট ক্যান্সারের তুলনায় স্ট্রোক নারীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় এবং এই কারণে স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে আমাদের আগে থেকেই জেনে রাখা খুবই জরুরী।
স্ট্রোকের ধরণঃ
ইসকেমিক স্ট্রোকঃ মস্তিষ্কে ও রক্তনালীর রক্তে জমাট বেঁধে অথবা শরীরের অন্য কোন স্থান থেকে বিশেষ করে হৃদপিণ্ড থেকে জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে গিয়ে রক্তনালীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, মস্তিষ্কের ভেতরে যে রক্তনালীগুলো রয়েছে, সেগুলোর ভেতরে যখন কোন থ্রোমবাস তৈরি হয়, রক্ত চলাচল ব্যহত হয় তখন এটিকে ইসকেমিক স্ট্রোক বলা হয়।
হেমোরেজিক স্ট্রোকঃ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হেমোরেজিক স্ট্রোক হয়ে থাকে যা উচ্চ রক্তচাপের কারণে ঘটে।
স্ট্রোকের ঝুঁকিপূর্ণ কারণঃ
– উচ্চ রক্তচাপ
– ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ
– বিভিন্ন হৃদরোগ
– ধূমপান
– স্থূলতা
– উচ্চ কোলেস্টেরল স্তর
– মদ্যপান
– স্ট্রেস
– শারীরিক কার্যকলাপের অভাব
মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়ঃ
রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা থাকলে এ রোগের দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক এবং মানসিক কিছু জটিল সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব এবং সেই সাথে মৃত্যু ঝুঁকিও অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্য ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণের পার্থক্য দেখা দেয়।
স্ট্রোকের ফলে মুখের মাংসপেশীতে অসাড়তা দেখা দেয়। মুখের একপাশ বেঁকে যায় এবং নাকের দুপাশের ভাঁজ প্রায় হারিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে একইপাশের হাত বা পা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরিসংখ্যান মতে, ৮০% মহিলাদের মধ্যে স্ট্রোকের এই ধরণের লক্ষণ দেখা দেয়।
আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, স্ট্রোকের কারণে পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুহার বেশী। এর কারণ হল অনির্দিষ্ট উপসর্গগুলো মাঝেমধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণের মতো মনে হয় না।
অধিকন্তু, গর্ভাবস্থার সময়, জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি ব্যবহার করার সময়, মেনোপজের সময় হরমোন থেরাপি এবং অন্যান্য হরমোন রোগের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশী বেড়ে যায়।
দৃষ্টিসংক্রান্ত ক্ষতিঃ স্ট্রোকের কারণে হঠাৎ করে এক চোখ বা দুই চোখেই ক্ষণস্থায়ী ঝাপসা দেখা বা একেবারেই না দেখা। এমনকি চোখের পাতার স্বাভাবিক ভাগের ক্ষতির কারণে অন্ধ হয়ে যেতেও পারে।
তীব্র মাথা ব্যথাঃ হঠাৎ করে প্রচণ্ড মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে এবং মাথা ঘোরা সহ বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
বুকে আকস্মিক এবং তীব্র ব্যথাঃ এই উপসর্গ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও দেখা দেয়। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি বুকে তীব্র ব্যথার পাশাপাশি হেঁচকি উঠে তাহলে বুঝে নিতে হবে তাঁর স্ট্রোক হতে পারে।
অস্পষ্ট সমন্বয়ঃ স্ট্রোকের কারণে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। তাই হঠাৎ করে বয়স্ক কারও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দেয়, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি সাধিত হওয়ার কারণে সাধারণত মাথার যেদিক আক্রান্ত হয় তার বিপরীত দিকের অংশ এবং অংশ বিশেষ পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ে বা নড়াচড়ায় নিয়ন্ত্রণহীনতা দেখা দেয় এবং স্মৃতিশক্তি আর চিন্তাশক্তির ক্ষতি সাধিত হয়।
হঠাৎ ক্লান্তিঃ একজন কর্মক্ষম ব্যক্তির হঠাৎ করে মেজাজ, তৃষ্ণা, দুর্বলবোধ এবং কোন কিছু করার অনিচ্ছার পরিবর্তন অনুভব করা। তাছাড়া নারীরা হতাশ অনুভব করতে পারে।
চেতনা হ্রাসঃ একজন ব্যক্তি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন তার মুখ লাল হয়ে যাবে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট এবং বুকে ধড়ফড় লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।
মুখের একপাশে ব্যথাঃ নারীদের স্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হল মুখের একপাশ তীব্র ব্যথা, শরীরের একদিকের হাত বা পা নাড়তে কষ্ট হওয়া।
স্ট্রোক টেস্টঃ
কোন ব্যক্তি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা ঘরে বসেই নির্ণয় করা যেতে পারে। নির্ণয় করার সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে-
হাসিঃ এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির হাসতে অসুবিধা হচ্ছে কিনা বা হাসতে গেলে গাল বা চোখ বেঁকে বা কুঁচকে যাচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
হাতঃ সেই ব্যক্তি দুহাত উপরে ওঠাতে পারছে কিনা এবং সোজা অবস্থায় ৯০ ডিগ্রি কোণে ৫ সেকেন্ডের জন্য ধরে রাখতে পারছে কিনা তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে তার একটি হাত পড়ে যাবে।
কথাঃ কথা বলার সময় সঠিকভাবে কথা বলতে এবং বুঝতে পারছে কিনা, কিছুক্ষণের জন্য কথা জড়িয়ে বা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। ধীরে ধীরে কথা বলা বা একটি উত্তরের অনুপস্থিতি উভয়ই স্ট্রোকের লক্ষণ।
আপনি যদি এমন উপসর্গ নিজের মধ্যে বা অন্য কারোর মধ্যে দেখতে পান তাহলে রোগীকে অতিদ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখবেন! স্ট্রোকে আক্রান্ত একজন ব্যক্তিকে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ডাক্তারের কাছে এমন অবস্থায় মাত্র ৪.৫ ঘন্টা সময় আছে।
আমরা আশা করি আপনার যেন এই টিপসগুলো পিছন ফিরে উত্থাপন করার প্রয়োজন না হয়। কিন্তু আপনার এই বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখা উচিৎ। আমরা কি স্ট্রোক বিষয়ে আরো কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মিস করেছি? যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে থাকে তাহলে মন্তব্য আমাদের সাথে শেয়ার করবেন। আপনি নিজে সুস্থ থাকুন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশে থাকুন। ধন্যবাদ।





