কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে টাকা খেয়েছেন এমন অপবাদকে যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তবে নিজেই নিজের ফাঁসি চাইবেন বলে জানিয়েছেন আহবায়ক হাসান আল মামুন। তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া সেই স্ট্যাটাসকে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল- ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

কোনদিনও এত বড় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা আমার মত ক্ষুদ্র মামুনের ছিল না। গ্রামের ফুটবল খেলা, ভলিবল খেলা, দৌড়, লম্বা লাফ- এগুলোতে ছিলাম প্রথম সারিতে। জেলা ফুটবল দলেরও ছিলাম একজন সদস্য।

মুজিবুল আলম হিরা মামা, যখন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, তখনও বিভিন্ন সময় মিছিলে গিয়েছি। সর্বশেষ যখন ফয়সাল আহম্মেদ রনি ভাই, ২০১১ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন, সেদিন শহরে বন্ধুদের সাথে মিছিলে ছিলাম আমি, নৌকার মিছিলে স্লোগান দিতাম, পুরো জেলায় আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবেই পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর নতুন করে আবার ঝুঁকে পড়লাম খেলায়। প্রথম বছরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলিবল দলের হয়ে খেলতে যাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। হলের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ বেশ কয়েকবার পুরস্কার পাই। বিশ্ববিদ্যালয় ভলিবল টিম, হলের ফুটবল ও ভলিবল, বিভাগের ফুটবল টিমের অধিনায়ক আমি। বিভাগের ফুটবল টিমের পেছনে তিন বছরে আমার হাত দিয়েই প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করি। একটা চকলেটের টাকাও পর্যন্ত খাতায় লিখে রেখেছি। কোন স্যার আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি।

আদর্শটা আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি। অন্য কারো কাছ থেকে না। দেখেছি পাই পাই করে কিভাবে বেতনের সামান্য টাকা দিয়ে সংসার চালিয়েছেন। হলে কোন দোকানে পাচঁ বছরে কেউ একটি টাকা পাবে এমন অভিযোগ করতে পারবেন না। আমার সাথে যারা মিশেছেন, তারাই ভাল বলতে পারবেন। যারা বিভিন্নভাবে অপবাদ দিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরকে বলব, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, এই আন্দোলন করার মাধ্যমে আমার পকেটে একটি টাকা ঢুকেছে, তাহলে আমি মামুন কথা দিলাম, রাজপথে দাঁড়িয়ে পুরো দেশের কাছে আমার ফাঁসি আমি নিজেই চাইবো।

নেতা হওয়ার জন্য আন্দোলন করিনি, আন্দোলন করেছি ছাত্র সমাজের অধিকারের জন্য। যারা চেয়ারে বসে বা টিভির পর্দায় গলা ফাটান, তাদেরকে বলবো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে একবার দেখে যান আমাদের বুক ফাটা আর্তনাদ। দেখে যান গণরুমগুলোর দৃশ্য। ১৯টি ভাইভা দিয়েও একটি চাকরি পাননি এমন ভাইও আছেন। তাই আপনাদের কাছে আবারও বলছি, রাষ্ট্রের কল্যাণে কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার চাই, বাতিল আমরা চাইনি। বাবার পেনশনের টাকায় চলি, মাসের শুরুতে চার হাজার টাকা এনেছিলাম। এখন পকেটে আছে ত্রিশ টাকা। আমরা কেমন আছি, বিবেককে প্রশ্ন করবেন, উত্তর পেয়ে যাবেন। নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি না তো!