একটি পরকীয়া। ভেঙে চুরমার দুটি সাজানো সংসার। স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তার প্রেমিক কামরুল মিলে অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে খুনের ঘটনায় বিস্মিত-হতবাক রংপুরের মানুষ। সর্বত্র ক্ষোভ-ধিক্কার। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
দু’ জন দু’ ধর্মের। পরিবার-সন্তান রয়েছে দু’ জনেরই। তবুও তাদের এই প্রেম-পরকীয়া। হত্যাকাণ্ডের সব নেপথ্য নতুন নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিকের প্রেমিক কামরুল ইসলাম। তার পরিকল্পনাতেই ২৯ মার্চ রাত সাড়ে দশটার দিকে হাত-পা বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী রথিশকে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর নিহত আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিককে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে প্রায় ১শ’ মহিলা বন্দির সঙ্গে একটি কক্ষে রাখা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে, স্নিগ্ধা বেশির ভাগ সময় উদাস মনে রবীন্দ্র সংগীত গাইছেন। আবার কখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। মাঝে মধ্যে অপর বন্দি নারীর কাছে পান-সুপারি চেয়ে খাচ্ছেন। তবে জেলখানার খাবার স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করছেন।
যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে সেই কক্ষের অন্য বন্দিরাও তাকে কিছুটা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে। আবার অনেক মহিলা বন্দিই তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আমজাদ হোসেন জানান, স্নিগ্ধা কারাগারে মহিলা ওয়ার্ডে ভালো আছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ খাবারে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আইনজীবী রথিশকে হত্যা করে কামরুল ও স্নিগ্ধা। পরদিন মোল্লাপাড়ার কামরুলের ভাইয়ের নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে লাশ পুঁতে রাখা হয়।
তার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে উত্তাল হয়ে উঠে রংপুর। এরপর তার সন্ধান পেতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নগরীর তাজহাট মোল্লা পাড়ার একটি বাসা থেকে রথিশ চন্দ্রের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জঙ্গি-জামায়াত বা ব্যক্তিগত বিরোধসহ বিভিন্ন কারণে তিনি নিখোঁজ হতে পারেন এমন ধারণা করা হলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায় স্ত্রীর পরিকল্পনাতেই খুন হন আইনজীবী রথিশ।
খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিক, মেয়ে অদিতি ভৌমিক, দীপা ভৌমিকের পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম এবং দুই স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রথিশ চন্দ্রের মেয়ে অনিতা ভৌমিককে ছেড়ে দেয় র্যাকব।
এছাড়া রথিশ চন্দ্র খুনের ঘটনায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও সহকারী মিলন মোহন্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।





