প্রথম ইনিংসে তুষার ইমরানের সেঞ্চুরিতে ৪০৩ রান করে অলআউট হয়েছিল প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। এরপর বিসিএল’র চতুর্থ রাউন্ডে জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় দিন সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৩০০ রানে গুটিয়ে যায় ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল। ১০৩ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ফের সেঞ্চুরি হাঁকান তুষার ইমরান। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
৭ উইকেট হারিয়ে ৩১১ রানে ঘোষাণা করেন দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য ছিল শেষ ৪৫ ওভারে ৪১৫ রান। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারালেও দলকে আর কোন বিপদে পড়তে দেননি দুই তরুণ ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন ও লিটন কুমার দাস।
দু’জনই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে থেকেছেন অপরাজিত। সেই সঙ্গে ম্যাচের ফলাফলও ড্র’তেই নিষ্পত্তি হয়। চার ম্যাচে সমান ড্র’তে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থান এখন তালিকার তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে একই সমান ম্যাচ ও ড্র নিয়ে পূর্বাঞ্চলের অবস্থান ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তুষার ইমরান।
গতকাল দক্ষিণাঞ্চলের ৪১৫ রানের জবাবে লিটন দাস ও আফিফ হোসেনের দারুণ দু’টি সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচিয়েছে পূর্বাঞ্চল। দু’জনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে পূর্বাঞ্চল ১ উইকেটে ২২৪ রান তোলার পরই ড্র মেনে নেয় দুই দলের অধিনায়ক। চতুর্থ দিন দক্ষিণাঞ্চল দিন শুরু করেছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৪২ রান নিয়ে।
২৯ রানে শুরু করা সৌম্য ফিরে যান আর ৬ রান যোগ করে। কিন্তু ৪৬ রানে শুরু করা তুষার এগিয়ে যায় দারুণভাবে। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ১৪৪ বলে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করা বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যানের ১৫৬ তম ম্যাচে এটি ২৮তম সেঞ্চুরি।
সেই সঙ্গে ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের দ্বাদশ ব্যাটসম্যান তিনি। সেঞ্চুরির পরপরই অবশ্য অবসর নেন তুষার। জ্বলে ওঠেন প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ মোহাম্মদ মিঠুন। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৬৬ রান। শেষ দিকে ৫ বলে ৩ ছক্কায় ১৯ করেন অধিনায়ক রাজ্জাক। মধ্যাহ্নবিরতির দুই ওভার পর ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণাঞ্চল।
এরপর পূর্বাঞ্চলের চ্যালেঞ্জ তখন দুই সেশন টিকে থাকা। তৃতীয় ওভারে ইমতিয়াজ হোসেনকে হারিয়ে কাজটা কঠিন হয়ে ওঠে আরও। কিন্তু এরপরই লিটন ও আফিফের আক্রমণে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পূর্বাঞ্চল। দু’জন শুধু টিকেই থাকেননি। রান তাড়াও যেন শুরু করেছিলেন।
তুলেছিলেন ব্যাটে দারুণ ঝড়ও। প্রতি ওভারে প্রায় ৫ রান করে তুলে তারা গড়েন ২০৫ রানের অপরাজিত জুটি। ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১২৯ বলে ১১৩ রান করেন লিটন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ১০ম সেঞ্চুরি। এছড়াও ১০ চার ও ৩ ছক্কায় আফিফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ১৩১ বলে। নিজের ৫ম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আফিফের সেঞ্চুরির পরই ড্র মেনে নেয় দুই দল।
এ ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে বোলারও দারুণ দাপট দেখিয়েছেন। বিশেষ করে পেসাররা। পূর্বাঞ্চলের পক্ষে খালিদ ও দক্ষিণাঞ্চলের পক্ষে কামরুল ইসলাম রাব্বি নিয়েছেন ৪টি করে উইকেট। স্পিনারদের মধ্যে সফল দক্ষিণাঞ্চলের আবদুল রাজ্জাক ও নাঈম হাসান। তারাও দু’জন নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। এছাড়াও পূর্বাঞ্চলের হয়ে সফল স্পিনার সোহাগ গাজী নিয়েছেন ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম ব্যাংক-ইসলামী ব্যাংক
টস: পূর্বাঞ্চল (ফিল্ডিং)
দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৪০৩ রান, দক্ষিণাঞ্চল ২য় ইনিংস: (তুষার ১০৩ (আহত অবসর), সৌম্য ৩৫, মিঠুন ৬৬, নুরুল ১০, আবু জায়েদ ২/৬৩, সোহাগ ৩/৮২, আশরাফুল ২/৬১)।
পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৯৫.৫ ওভারে ৩০০ পূর্বাঞ্চল ইনিংস (লক্ষ্য ৪১৫) ৪৫ ওভারে ২২১/১ (লিটন ১১৩*, আফিফ ১০০*; কামরুল রাব্বি ১/৩২)।
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যাচসেরা: তুষার ইমরান
ওয়ালটন -বিসিবি
টস: বিসিবি উত্তরাঞ্চল
মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৫
২৯
উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৯৩.১ ওভারে ৩০০ (মুশফিক ১১১, তাইজুল ২৫, শরিফুল ৫*, নাঈম (আহত অনুপস্থিত); আবু হায়দার ২/৬৮, শরিফ ০/৪৮, এবাদত ৪/৬১, মোশাররফ ২/৫৩, তানবীর ১/৪২, মাহমুদুল্লাহ ০/২২)।
উত্তরাঞ্চল ২য় ইনিংস: (ফলো অনের পর) ৬৫.২ ওভারে ২১৩/২ (মিজানুর ১০০*, জুনায়েদ ১, শান্ত ৮৯, আরিফুল ২২*; শরিফ ১/৯, সাইফ ১/১, সাদমান ০/১)।





