ভারত-শাসিত কাশ্মীরে আট বছর বয়সী মুসলিম মেয়ে আসিফা বানুকে মন্দিরে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার ভারতীয় পুলিশ ও দেশটির সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

অভিযোগে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানজি রাম তার ভাগ্নে ও এক পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ দেন মেয়েটিকে অপহরণ করতে। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। কাশ্মীরের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা কাঠুয়া জেলা থেকে আসিফার যাযাবর বাকেরওয়াল সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে বিতাড়িত করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আট বছরের মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একটি হিন্দু মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাকে চারদিন আটকে রেখে কমপক্ষে তিনজন লোক একের পর এক ধর্ষণ করে।

পরে তাকে ফেলে রেখে যায় অপরাধীরা। মন্দিরের পাশের জঙ্গলে আসিফার লাশ পাওয়া যায়। তিন সন্দেহভাজন ধর্ষকের একজন ভারতীয় পুলিশের সদস্য।

আসিফা হত্যার বিচার দাবি পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রথম দিকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল পুলিশ কর্মকর্তা আনন্দ দত্তকে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ছয় হাজার ডলার ঘুষ দেয়া হয় তাকে। পুলিশ আরো জানিয়েছে, আনন্দ আসিফার গায়ের কাপড় ধুয়ে ফেলে, যাতে সেখানে রক্ত বা বীর্যের কোনো চিহ্ন না থাকে।

আসিফার হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে তিনিও একজন। বিবিসি জানিয়েছে, যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এ নিয়ে কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কাঠুয়া জেলার বাসিন্দারা মূলত সবাই হিন্দু। তাদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা সবাই নির্দোষ। তাদের আটকের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছে তারা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার্জশিট দেয়ার সময় পুলিশকে আদালতে ঢুকতে পর্যন্ত বাধা দিয়েছে স্থানীয় হিন্দু আইনজীবীরা। অভিযুক্তদের সমর্থনে মিছিল করেছেন ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির দুই সংসদ সদস্য। বর্তমানে স্থানীয় দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সঙ্গে জোট করে কাশ্মীর শাসন করছে দলটি।

পুলিশকে চার্জশিট দিতে বাধা দেয় আইনজীবীরা

এদিকে আসিফার এই ঘটনায় ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে বিক্ষোভ। তবে ঘটনাটি নিয়ে নীরব দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এই অমানবিক ঘটনার ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতায় কাশ্মীরিদের মধ্যে বিক্ষোভ আরো বেড়েছে। ভারতের দ্য উইয়ার নিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মনোবিনা গুপ্ত বলেন, ‘আইন ভঙ্গ করে যারা মুসলিমবিরোধী অপরাধ করছে, তাদের দায়মুক্তি দেয়ার একটি সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’