২০১৭ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি জাতীয় পত্রিকার নারী নির্যাতনের সংবাদ বিশ্লেষণে দেশে ১৮৮৭ জন নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ২০১৭ সালের ৯ মাসে ৪৯৩ ধর্ষণ ৪৩০ হত্যা এবং ১৭৯টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলা কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ তথ্য জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে শতকরা হিসেবে ধর্ষণ ২৬ শতাংশ এবং ২৩ শতাংশ আত্মহত্যার এই নির্যাতন গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকাতে; যার পরিমাণ ৯৮৭। শতকরা হিসেবে সারাদেশে মোট নির্যাতনের ৪৯ শতাংশ।
তারা আরো জানান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি বরং ভয়াবহতা ও নিঃসঙ্গতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এই সকল নারী নির্যাতনের ঘটনায় সাধারণ জনগণ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নারী নিরাপত্তা জোট উদ্বিগ্ন। বর্তমানে আমাদের দেশে নারীর নিরাপত্তা স্বাধীনতা অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করছে। নারী নির্যাতনের বিচার পরিস্থিতি নিয়ে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রথম আলোর অনুসন্ধানে যা এসেছে তা হলো আসামিদের সাজা হচ্ছে ৩ শতাংশ, অব্যাহতি ৪১ শতাংশ খালাস ৫৫ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি ১ শতাংশ।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারীদের নির্যাতন এর প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম সঙ্গ অনুষঙ্গ পহেলা বৈশাখ যা বিশ্বের অনেক দেশ তাদের প্রথাগত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পালন করে। যেখানে পুরুষ নারী ও শিশুর সঙ্গে অংশ গ্রহণ করে। পহেলা বৈশাখ অসাম্প্রদায়িক লোকায়ত বাংলার অন্যতম উৎসব। এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উৎসব প্রাঙ্গণে নারীর উপর বর্বরোচিত আক্রমণ সংঘটিত হয়। একই সাথে নারী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলার সংস্কৃতি ও নারীর স্বাধীন চলাফেরার বিরুদ্ধে মৌলবাদী শক্তির প্রচার-প্রচারণা চলমান আছে, ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে আমরা এসব অপতৎপরতা তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাগাতার নারী নিপীড়ন ধর্ষণ ও নারী বিরোধী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং এসব প্রতিরোধে সরকারের নিষ্ক্রিয় অবস্থানের নিন্দা জানাই।
এ সময় তারা দাবিতুলে ধরে বলেন, বিকেল ৫ টার পর জনগণ উম্মুক্ত স্থানে থাকতে পারবে না এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। উম্মুক্ত স্থানগুলি যেন নারী-পুরুষ সকলের চলাচল উপযোগী থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে। নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করতে হবে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। প্রতিটি নারী নির্যাতনের ঘটনা অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।





