ইমরান ও মন্ত্রীকন্যার সংসার- মন্ত্রীকন্যার সাথে সরবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও বছর না ঘুরতেই নীরবেই ঘর ভেঙ্গেছে গনজাগরনমঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

দুই পক্ষের সমঝোতায় ‘গভীর সতর্কতার’ সাথে প্রায় তিনমাস আগেই ডিভোর্স সম্পন্ন হয় ইমরান ও মন্ত্রীকন্যা নন্দীতার। এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর নন্দিতার সঙ্গে বিয়ে হয় ইমরানের।

ইমরানের এটি প্রথম বিয়ে ও প্রথম বিচ্ছেদ হলেও মন্ত্রীকন্যা নাদিয়ার ছিলো এটি দ্বিতীয় বিয়ে ও দ্বিতীয় বিচ্ছেদ ।
গত কদিন ধরে বিবাহ বিচ্ছেদের খবর সামাজিক মাধ্যমসহ সবখানেই ব্যপক আলোচিত হলেও ঘটনার অন্তরাল নিয়ে এখন অবধি স্পষ্ট করে মুখ খোলেননি কেওই।

গত সোমবার ইমরানের বিবাহ বিচ্ছেদের খবর চাউর হবার আগ পর্যন্ত কেওই জানতেননা এই খবর। এমনকি ডিভোর্সের আগে ও পরেও দুই পক্ষের কেওই কোন আলোচনা করেননি কারো সাথে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রীর পারিবারিক একটি সুত্র জানিয়েছেন, ‘নন্দীতা খুবই চাপা স্বভাবের মেয়ে। ইমরানকে বিয়ের সিদ্ধান্ত একাই নিয়েছিলেন। শুরুতে বাবার দ্বিমত থাকলেও পরে মেয়ের জেদের কাছে হার মানেন তিনি।

বিয়ের পরে ছোট- খাটো নানা বিষয়ে দুজনের মতবিরোধ ছিলো, তবে সেটা কখনোই তাদের দুজনের বাইরে তৃতীয় কারো কাছে স্পষ্ট করেননি তারা।’

তিনি নিজের মত প্রকাশ করে এসময় আরও জানান, ‘অসংলগ্ন জীবন-যাপন’, সাংসারিক জীবনে উদাসীনতাসহ ‘যৌক্তিক’ বেশ কিছু অভিযোগের কারনেই হয়তোবা ইমরানকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয়েছেন নন্দিতা।’

তবে বিস্ময় প্রকাশ করে সুত্রটি জানায়, মন্ত্রীর পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ হলেও এতদিন ব্যপারটা কোনভাবেই আচ করতে পারেননি তিনি।

এদিকে, শুধুমাত্র ভার্চুয়াল জগত অর্থাৎ ফেসবুকে স্ট্যাটাসে নানা মন্তব্যে দৃশ্যমান থাকলেও বাস্তবে ‘লোকচক্ষুর অন্তরালে’ চলে গিয়েছেন ইমরান এইচ সরকার ।

ঘটনার ব্যখ্যা না দিতে ‘মুখে কুলুপ এটেছেন তিনি । বারবার সংবাদমাধ্যম থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও কিছুই জানাচ্ছেননা। আবার কখনোও বা ফোন ধরেই চুপ থাকছেন কোন কথা না বলেই। পরিচিত কেওই, এমনকি ধারে কাছের সহচরেরাও দিতে পারছেন ইমরানের খবর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইমরান এইচ সরকারের অনুসারি একজন জানিয়েছেন, ‘বরাবরই নানা প্রতিকুলতায় স্বতঃস্ফূর্ত থাকলেও গত বেশ কিছুদিন ধরেই বিষাদগ্রস্থ ছিলেন ইমরান ভাই। আগের চেয়ে তুলনামুলক আড্ডায় দেখা মিলতোনা তার।’

সুত্রটি জানায়, সম্ভবত এসব কারনেই বেশ যত্ন করে গত কয়েক মাস ধরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইমরান ভাইয়ের ফেসবুক ওয়াল থেকে দাম্পত্য জীবনের নানা মুহুর্তেই প্রকাশিত স্ট্যাটাস ও ছবিগুলো সরিয়ে ফেলেছেন তিনি ।’

আলোচিত এই বিষয়ে প্রকৃত রহস্যের ভেদ করতে দুই পক্ষের সাথে নানা চেষ্টাতেও সম্ভব হয়নি যোগাযোগ। সঙ্গত কারনেই এমন অনাকাংখিত বিচ্ছেদের নেপথ্য কারন হিসেবে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সম্ভাব্য নানা আলোচনা ।

এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মেয়ে নাদিয়া নন্দিতা ইসলামের সংসার ভাঙ্গার খবর মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে প্রথমবারের মত নিজেই নিশ্চিত করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় একাধিক মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্রধান ইন্ধনদাতা ইমরান এইচ সরকার।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, “কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলাকালে এক ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে ইমরান এইচ সরকার মিথ্যা ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে নাটক সাজানোর চক্রান্ত চলছে। আমরাও ঘরে বসে থাকবো না। প্রতিরোধে নামতে হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখনও ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা কেন করা হচ্ছে না? তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন? সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে, আর আমরা ঘরে বসে থাকব না। আর প্রতিবাদ নয়; তাদের প্রতিরোধ করব।”

ইমরানের প্রতি ইঙ্গিত করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, “একজন ব্যক্তির ফেইসবুক পেইজে আহত একজনকে নিহত বলে পোস্ট দেওয়া হয়।

যিনি মারা গেছেন বলে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়া হল, ওই ব্যক্তি পরে নিজে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি বেঁচে আছেন। আন্দোলনের দাবি যৌক্তিক বা অযৌক্তিক হতে পারে। তবে সহিংসতা যৌক্তিক হতে পারে না।”

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উস্কানিদাতাদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে, সে যে-ই হোক না কেন। আমার মেয়ে আর ইমরানের সংসার করছে না। তিন মাস আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।’

তিনি জানান, “প্রায় তিন মাস ধরে ইমরানের সঙ্গে সংসার করছেন না নাদিয়া। নাদিয়ার ইচ্ছেতেই পারিবারিকভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বিষয়টি ওঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে আলোচনার এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বলা হয়, আপনার জামাই তো বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছে। তখন শিক্ষামন্ত্রী বলতে বাধ্য হন যে তার মেয়ে ইমরানের সংসার করছেন না।”

ইমরানকে গ্রেপ্তারের দাবি
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে ইমরান বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অভিযোগ তুলে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।