জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ আর সে দেশকে ডিজিটাল বানিয়েছেন তাঁর যোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ জাতীয় সংকট নিরসনে শেখ হাসিনা নিজে ডিজিটাল প্রযুক্তি কেন ব্যবহার করছেন না? ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কোটা সংস্কার বা বাতিল করার ঘোষণা সম্বলিত শেখ হাসিনার মুখনিঃসৃত একটি ভিডিও বার্তায় নিমিষেই উত্তাল সাগর উন্মাদনা হারিয়ে শান্ত হয়ে যাবে। থেমে যাবে ছাত্র-তুফান। উল্টো দেশব্যাপী আনন্দের বাতাবরণ তৈরি হবে, সরকার জনপ্রিয়তা অর্জন করবে আরও অনেক বেশি, এ কথা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।
ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে ঘোষণার পরে আন্দোলন থেমে গিয়েছিল। মাঝখান থেকে বেগম মতিয়া চৌধুরী আর আবুল মাল আব্দুল মুহিত অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে পুনরায় ছাত্রসমাজকে অস্থির করে তোলেন। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা দাবি করছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে বলেছেন, কোটা শুধু সংস্কার নয়, বাতিল হবে। খুব ভালো কথা। কিন্তু এতেও আন্দোলন শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখছিনা। ছাত্র-ছাত্রীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারো কথায় তাঁরা বিশ্বাস করেন না। ছাত্রলীগ নেতাদ্বয় আরও একটি আশার বাণী শুনিয়েছেন। বিকেলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিয়ে একটা ঘোষণা দিতে পারেন। এমন হলে আলহামদুলিলাহ! কিন্তু ডিজিটাল যুগে এত জটিলতার কিছু থাকা উচিত নয়। সংসদে যাওয়ার আগেই শেখ হাসিনা একটি ভিডিও বার্তায় সব ঠাণ্ডা করে দিতে পারেন।
কিন্তু এত বিলম্ব করার কোনো কারণ ছিলনা। বহু আগে থেকে আমরা লেখালেখি করেছি, লাখে লাখে ছেলেমেয়ে একের পর এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন করেছে। সেই ম্যসেজ মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি। ম্যাসেজ ঠিকমত পৌঁছালে আজ দেশের অবস্থা এমন হত না।
সবাই বলে আসছে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে, কিন্তু সরকার চলেছে উল্টো পথে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অনেকে পর্যন্ত কোটা সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বলেছে, নাতি-নাতিনদের জন্য সুবিধা রহিত করতে বলেছে। উপজাতি কোটার নামে গুটিকয়েক গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদানের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে। সরকারপন্থী বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের অনেকেই কোটা সংস্কারের দাবিকে যৌক্তিক বলে মেনে নিয়ে দাবির সাথে ঐক্যমত প্রকাশব করেছেন। এরপরেও এই ইস্যুতে সরকারের উল্টো আচরণ হয়নি। বরং পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, শেখ হাসিনাকেই কেন ঘোষণা দিতে হবে? ওবায়দুল কাদের তো আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, শেখ হাসিনার পরেই যার পজিশন। নিজে বড় মন্ত্রী। এত বড় মানুষের কথা ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্বাস করে না কেন? এই দায় কার? আমার মনে হয়, দেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের উপর থেকে বিশ্বাস প্রত্যাহার করেছে। মানুষ এদেরকে মনের থেকে মেনে নিতে পারছে না। বিশ্বাস করে না। কথায় ও কাজে মিল না থাকায় বোধহয় মানুষের এই অবিশ্বাস। এখানে ব্যতিক্রম শেখ হাসিনা আর আরেকজন মানুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে এই মুহূর্তে অনেক বেশি দরকার ছিল আমাদের। মানুষ সৎ মানুষদের রাজনীতিতে দেখতে চায়। আমি কাউকে অসৎ বলছিনা, শুধু মানুষের মনের কথা বলার চেষ্টা করছি। সৈয়দ আশরাফুল আজ দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকলে বা তাঁকে যদি রাখা হত, তাহলে দেশকে বা প্রধানমন্ত্রীকে এত বড় সংকটে পড়তে হত না বলেই আমার ধারণা।
রাজনীতিতে সৎ, নিষ্ঠাবান, আন্তরিক, উদ্যোগী মানুষের অভাব। সৎ ও আদর্শবান মানুষকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেয়া হয় না। একটা দুষ্টচক্র সব কিছু জিম্মি করে ফেলেছে। এর থেকে বাইরে বেরিয় আসতে হবে। রাজনীতি ঠিক হয়ে গেলে, দেশের আমলাতন্ত্রও ঠিক হয়ে যাবে। দেশ উপহার দিয়েছেন রাজনীতিবিদরা, দেশকে এগিয়ে নিয়েও যাবেন রাজনীতিবিদরা।
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়





