কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীরা সংখ্যায় একজন দুইজন নয়, লাখ লাখ। ওরা আমাদের ছোট ভাই, বন্ধু। প্রত্যেকে শিক্ষিত। দয়া করে তাদের কথাগুলো শুনুন। ওরাই আমাদের আগামি প্রজন্ম। ওরা যদি নায্য কথা বলে, আমরা শুনতে সমস্যা কি? ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
দেরি হয়ে গেছে? সমস্যা নেই, তাদের আশ্বস্ত করুন, বলুন এ বাংলাদেশে কেউ বঞ্চিত হবে না। কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন সময় টিভির সাংবাদিক এহসান জুয়েল।
জুয়েলতিনি এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় এ ছেলে মেয়েগুলোর কথা আমাদের মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিৎ। এরা সংখ্যায় একজন দুইজন নয়, লাখ লাখ। ওরা আমাদের ছোট ভাই, বন্ধু। প্রত্যেকে শিক্ষিত। নিজেদের মেধা দিয়ে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে, তারা জীবনের একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
‘এখন তারা নিজেদের নিরাপদ একটা ভবিষৎ চান, পরিবারের জন্য কিছু করতে চান। তাদের এ পথে বাধা রাষ্ট্রের অনায্য কোটা প্রথা। তারা নিজেদের বঞ্চিত ভাবছেন, শোষিত ভাবছেন, তাই তারা একটি নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের দাবিগুলোকে একটা ভীত দিয়েছেন, নিজেদের সংগঠিত করেছেন। তারপর তারা রাজপথে নেমেছেন। এ দেশের ইতিহাস কিন্তু সবসময় এ ধরনের মানুষদেরই জয়ের ইতিহাস।’
‘ওদের স্লোগানগুলো শুনুন। জয় বাংলা, জয় বাংলা ধ্বনিতেই মুখরিত এখন শাহবাগ। তাদের অবহেলা করলে বোধহয় ভুল করা হবে। ঐখানে যে ছেলেটা আছে, তাদের অনেকের পরিবারই আজ সারারাত জেগে থাকবে, তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু তারা আজ আতঙ্ক নিয়ে জেগে থাকবেন শাহবাগে থাকা নিজের সন্তানের নিরাপত্তা, স্বজনদের নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে। কিন্তু ঐ পরিবারের বাবা হয়তো তার সন্তানকে ফিরে আসতে বলবেন না একটি নিরাপদ ভবিষতের আশায়।’
‘অনেকে সুযোগ নিতে উঠে পড়ে লেগেছেন। সুযোগ সন্ধানিরা এর মধ্যে গুজব ছড়াতে শুরু করছেন। মেডিকেলে এক ছাত্র মারা গেছেন, এ গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আশ্বস্ত করে বলছি, খবর নিয়ে বলছি, এটা স্রেফ গুজব। যারা মিথ্যে ছড়িয়ে ফায়দা লুটতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আটক করে কিন্তু এ অান্দোলন থামানো যাবে না।’
‘শাহবাগ থানায় এত বন্দির জায়গা হবে না। আমার আশঙ্কা, কাল সকাল না হতেই এ অান্দোলন দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। সব সাধারণ শিক্ষার্থীই শেষ পর্যন্ত একাত্ন হবেন দলমত নির্বিশেষে। এখন পুলিশ নামানো হয়েছে, কিন্তু কোনোভাবে ছাত্রলীগকে এখানে জড়ানো হবে আরেকটা বড় ভুল। কারণ ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদের এত বড় স্বার্থের বাইরে গেলে আরো অনেক বছর ধরে তাদের হয়তো এর দায় শোধ করতে হতে পারে।’
‘তাই, আবারো বলছি, দয়া কররে তাদের কথাগুলো শুনুন। ওরাই আমাদের আগামি প্রজন্ম। ওরা যদি নায্য কথা বলে, আমরা শুনতে সমস্যা কি? দেরি হয়ে গেছে? সমস্যা নেই, তাদের আশ্বস্ত করুন, বলুন এ বাংলাদেশে কেউ বঞ্চিত হবে না। কারো ভবিষৎ নিয়ে কেউ ভোটের রাজনীতি করবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিয়ে, ন্যায্য প্রাপ্য দিয়েও বঞ্চিত করা হবে না কাউকে। উন্নয়নীল বাংলাদেশ, অন্যায্য কোটা হোক শেষ।’





