প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।গ্রাহক আপনার সম্পর্কে কিছু জানতে পারি? আপনি ছেলে না মেয়ে ? আপনার বয়স কত? আপনি এই বিষয়ে কি নিজের জন্য জানতে চাচ্ছেন? নাকি আপনার পরিচিত কারো জন্য? কিডনি রোগের কারণ: ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
১. কিডনি রোগের অন্যতম প্রধাণ কারণ কিডনির প্রদাহ। কিডনির প্রদাহকে নেফ্রাইটিস বা Nephritic Syndrome বলে, যা কিডনির ছাঁকনি বা ফিল্টার মেমব্রেনকে ক্ষতবিক্ষত করে। এই রোগের কারণে শরীর থেকে অত্যাবশ্যক Protein বেরিয়ে যায়।
২. উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) ও ডায়াবেটিস (Diabetes) নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও হতে পারে কিডনি রোগ। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগ নয়, তবু কিডনিকে আক্রান্ত করে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করে।
৩. যাদের রক্তচাপ অতিরিক্ত কম থাকে, তাদেরও হঠাৎ করে কিডনি খারাপ হতে পারে।লক্ষণ বা উপসর্গ:কিডনির রোগে আক্রান্তরা শুরুর দিকে সমস্যা টের পান না। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শুরুর দিকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বা বমি ভাব, পায়ে পানি আসা-এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। উপরোক্ত যেকোন লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা জেনে নেওয়া উচিত।
কিডনী রোগ প্রতিরোধের উপায় :-আমাদের সবারই প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা প্রয়োজন। যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের কিডন রোগের ঝুঁকি বেশি, তাই এ রোগ দুটি অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। খাবার লবণ কম খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল বা এসপিরিন খেয়ে থাকেন যা কিডনিীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে যদি কোনো রোগের জন্য এ ধরনের ওষুধ নিয়মিত নেয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়। স্বাস্থ্য সচেতনতা তথা কিডনী রোগ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সবাইকে বছরে অন্তত একবার সিরাম ক্রিয়েটিনিন এবং প্রস্রাবে এলবুমিন নির্গতের পরিমাণ পরীক্ষা করা উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় কিডনী রোগ ধরা পড়লে ওষুধের মাধ্যমে তা সুস্থ করে তোলা সম্ভব। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।
এবার জেনে নিন কি করে আপনার কিডনির পাথর দূর করবেন...
১। প্রচুর পানি পান করুন
আপনার কোন প্রকারের কিডনি পাথর হয়েছে সেটা কোন ব্যাপার নয়। যদি কোন ব্যাথা না হয় তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দিবেন। বেশি করে পানি পান করলে কিডনি পাথর বাহির হয়ে যাবে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার ইউরিন ক্লিয়ার হয়, কারণ স্বচ্ছ প্রস্রাব দেখে বুঝা যায় যে, আপনার শরীর হাইড্রেটেড আছে।
২। লেবুর রস, আপেল সাইডার ভিনেগার ও অলিভ ওয়েল
এই উপাদান গুলো আপনার ঘরেই পাওয়া যাবে এবং কিডনি পাথর অপসারণের জন্য খুবই কার্যকরী। লেবুর রস ও অলিভ ওয়েল এর মিশ্রণ পেট ব্যাথার উপসর্গ কমাতে পারে। এই মিশ্রণটি খাওয়ার পরে ১২ আউন্স পানি পান করতে হবে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ০.৫ আউন্স লেবুর রস ও ১২ আউন্স পানি মিশ্রিত করুন। পান করার পূর্বে মিশ্রণটির মধ্যে ১ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশান। ব্যাথা কমার আগ পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় মিশ্রণ দুটি চক্রাকারে পান করুন।
৩। ডালিমের রস
ডালিমের অপরিমেয় স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আলাদা ভাবে ডালিমের জুস ও এর বীজ কিডনি পাথরের জন্য শুদ্ধ প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা ডালিমের এসারবিক ও তিক্ততার জন্যই একে ব্যবহারের কথা বলেন। ভালো ফল পাওয়ার জন্য অরগানিক ডালিম বা তাজা ডালিমের জুস পান করুন।
৪। তরমুজ
অন্য সবজীর চেয়ে তরমুজ পটাশিয়ামে ভরপুর থাকে। এবং এতে প্রচুর পানি থাকে বলে পানিশূন্যতা রোধ করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে ডাক্তার ও পুষ্টিবিদগণ তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন কারণ তরমুজ মূত্রবর্ধক এবং কিডনি পাথরের প্রতিকার করে।
৫। আঙ্গুর
কিডনি পাথরের সবচেয়ে ভালো হোম থেরাপি হিসেবে গণ্য করা হয় আঙ্গুরকে। আঙ্গুর মূত্র বর্ধক এবং এতেও পটাশিয়াম থাকে পর্যাপ্ত পরিমানে। এতে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম ক্লোরাইড ও অ্যালবুমিন থাকে যা কিডনি সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও ক্যাফেইন, চিনি ও অ্যালকোহল মুক্ত পানীয় যেমন- আদা চা, তুলসি চা, ফলের রস, গ্রিনটি পান করুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি কিডনি পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। ডাক্তার ও পুষ্টিবিদগণ স্বাস্থ্যবান কিডনির জন্য ‘কিডনি বিন’ বা ‘শিমের বীচি’ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এনার্জি ড্রিংক ও সোডা খাওয়া বাদ দিন। কিডনি পাথর অপসারণ হওয়া পর্যন্ত ক্যালসিয়াম অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বেরি জাতীয় ফল (স্ট্রবেরি), ইনস্ট্যান্ট কফি, চকলেট ও গাড় সবুজ শাক সবজি খাওয়া বাদ দিতে হবে।





