দুটি গোপনাঙ্গ নিয়ে জন্মেছেন তিনি। চিকিত্সকদের তরফে বলা হয়েছিল, তিনি কোনও দিনই ‘মা’ হতে পারবেন না। কিন্তু সেই নারীই এবার ‘মা’ হতে চলেছেন। হ্যাঁ, এটাই সত্য জন্ম থেকেই ‘Uterus Didelphys’-এ আক্রান্ত বর্তমানে বছর বত্রিশের কৃস্তা সচওয়াব। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কিন্তু ‘অস্বাভাবিকতা’টি ধরা পড়ে যখন তাঁর বয়স মাত্র বারো বছর। ‘Uterus Didelphys’-এর অর্থ হল, নারী শরীরে দুটি গোপনাঙ্গ, দুটি উম্ব ও এক জোড়া সারভিক্সের উপস্থিতি। আর একারণেই এর আগে দু’বার সন্তানের জন্ম দিতে ব্যর্থ হন কৃস্তা।
ডাক্তার বলে দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে আর কখনও গর্ভবতী হতে পারবেন না কৃস্তা। কিন্তু, ডাক্তারকে ভুল প্রমাণ করে আবারও ‘এক্সপেক্টিং’ বত্রিশের যুবতী। কিন্তু নিজের শরীরে এমন ‘অস্বাভাবিকতা’ কখনও অনুভব করেননি তিনি?
কৃস্তা জানাচ্ছেন, “১২ বছর বয়সে Uterus Didelphys সণাক্ত হওয়ার পর আমি জেনেছিলাম যে, আমার শরীরে দুটি করে ইউটেরাস ও সারভিক্স। কিন্তু ৩০ বছর বয়সে এসে প্রথম নিজের শরীরে আমি পাশাপাশি দুটি গোপনাঙ্গের উপস্থিতি লক্ষ্য করি। যৌন মিলনের সময়ও আমি অতিরিক্ত যোনিটির উপস্থিতি বুঝতে পারতাম এবং বেশ অস্বস্তি বোধ করতাম এরজন্য। কিন্তু আমি ভাবতাম, এটাই বুঝি (অস্বস্তি) স্বাভাবিক যা সব মেয়েই অনুভব করে থাকে।”
উল্লেখ্য, ০.৩ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে Uterus Didelphys আক্রান্ত হয়। জন্ম থেকে এই অস্বাভিকতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর লক্ষণগুলি প্রকাশ না পাওয়ায় বোঝাই যায় না বিষয়টি। রোগটির সঠিক কারণ কী তা স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও, জিনগত কারণে যে এই সমস্যা সৃষ্ট হয় সেবিষয়ে চিকিত্সকদের অনেকেই সহমত। তবে এর ফলে যৌন মিলনে খুব একটা সমস্যা দেখা দেয় না।
কৃস্তা ও তাঁর স্বামী কার্টনি দীর্ঘদিন ধরেই সন্তান চাইছেন। কিন্তু এর মধ্যেই দুই বার ‘মিসক্যারেজ’ হয়েছে কৃস্তার। আর এর জন্য রীতিমতো অবসাদগ্রস্থ এই দম্পতি।
কিন্তু চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে এবার আবার গর্ভবতী হতে পারার আনন্দে এখন সন্তান সুখের স্বপ্নে বিভোর এই দম্পতি।




