রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, প্রযুক্তি উন্নয়নের বাহন। কিন্তু এ প্রযুক্তি যেন সর্বনাশের বাহন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ে একটি অপরিহার্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী। লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল প্রদানসহ তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত থেকে ঘরে বসে অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এতে জীবন হয় সহজ ও গতিশীল। তিনি বলেন, কিন্তু এ মোবাইল যখন জীবনের ধ্যান-জ্ঞান সব হয়ে যায় তখন কিন্তু আর সেটা ভালো থাকে না। এতে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলকে সচেতন হতে হবে। তবে এ জন্য প্রযুক্তি বা মোবাইল কোনোভাবেই দায়ী নয়।বুধবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট পর্যায় ক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ও ব্যবহার এবং আবিষ্কার সম্পর্কে নিজস্ব কর্মসূচি থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নিজেদের জন্য যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম এবং উন্নত পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে।আবদুল হামিদ বলেন, সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ব্যর্থ হলে তা যুগের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, ইউজিসিসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বমানের শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধ দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষা এবং কেবল সনদ প্রদানই মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং মেধা বিকাশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেষ, বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যাতে শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হতে পারে তার দ্বার উন্মোচন করাই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘জাতি গঠনে প্রকৌশলী শিক্ষার গুরুত্ব অত্যধিক। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা একটি জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করে। প্রকৌশলীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে টেকসই উন্নতমানের রূপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা চেতনায় থাকবে দূরদৃষ্টি সুস্পষ্ট প্রতিফল।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিনিয়তই প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনে উদ্যোগী হয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার প্রতিটি স্তরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমি আশা করি, আজকের এই নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করবে এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্টা করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণে নিহত কুয়েটের চার শিক্ষার্থীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। এতে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আসগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।

সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে ৩৮ জন কৃতি গ্রাজুয়েটকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ প্রদান করেন। এছাড়া যে সকল শিক্ষার্থী ২০১০-২০১১ থেকে ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে বি.এস-সি. ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিইউআরপি এবং ২য় সমাবর্তনের পর হতে এ সময়কাল পর্যন্ত পি-এইচ.ডি., এম. ফিল, এম.এস-সি. ইঞ্জিনিয়ারিং ও এম. এস-সি. ডিগ্রী অর্জন করেছেন তাদের ডিগ্রী প্রদান করা হয়। মোট ২৭৯৫ জনকে স্নাতক ও ২২৮ জনকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বি. এস-সি ইঞ্জিনিয়ারিং ২৬৫৭, বিইউআরপি ১৩৮, এম. এস-সি ৬৯, এম. এস-সি ইঞ্জিনিয়ারিং ১০৩, এমফিল ৪৮ এবং ০৮ জনকে পিএইচ.ডি সনদ ডিগ্রী প্রদান করা হয়।