মেহেদির রং না শুকাতেই যৌতুকের বলি হতে হচ্ছে স্ত্রী মুন্নী (১৮) কে। স্বামী সোহাগের (২৫) দেয়া আগুনে শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে বিনা চিকিৎসায় ধুকে-ধুকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে সে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বুধবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়ার হস্তক্ষেপে গুরুতর আহত মুন্নীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর পূর্বে গত ২৩ মার্চ শুক্রবার বিকেলে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হকার্স মার্কেটের পূর্বে আলমগীরের বাড়িতে ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।মুন্নী হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ১০নং ওয়ার্ড মনিনাগ গ্রামের হালদার বাড়ির আব্দুল লতিফের মেয়ে। তার স্বামী সোহাগ বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের স্থানীয় নোয়াহাটা গ্রামের ভুইয়া বাড়ির দুলালের ছেলে।
এ দিকে বুধবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদকর্মী কামরুজ্জামান টুটুল ও মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করেন মুন্নীকে এবং হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রোটা. আহসান হাবিব অরুন ও স্থানীয় বিসমিল্লাহ হাসপাতালের সত্ত্বাধীকারী শেখ তোফায়েল আহমেদ এর সহযোগিতায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
মুন্নীর মা লাইলি বেগম জানান, গত তিন মাস পূর্বে পারিবারিকভাবে মুন্নীর সাথে সোহাগের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আমরা কিছু টাকা জামাইকে (সোহাগ) দিয়েছে। কিন্তু বিয়ের দুই মাস না যেতেই সোহাগ ১ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ-সৃষ্টি করে মুন্নীকে। আমরা টাকা দিতে না পারায় গত ১০ দিন আগে (২৩ মার্চ) তাদের ভাড়া বাসায় মুন্নীকে গ্যাসের চুলার কাছে নিয়ে মুখচাপা দিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় এবং সোহাগকে পুলিশে দিয়ে দেয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুন্নীকে রেপার করা হয়। কুমিল্লায় দু’দিন থাকার পর অবস্থা বেগতিক হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেপার করে।
লাইলি বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের সামর্থ্য না থাকায় কুমিল্লা থেকে মুন্নীকে বাড়িতে নিয়ে আসি। এখন ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় ঢাকা নিয়ে যাচ্ছি। মুন্নীকে বাচাঁতে কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন। আমরা কোথায় পাবো এতো টাকা। তাই সরকার ও বড়লোকদের (সামর্থবান) সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তার মোবাইল নম্বর ০১৬৪৩-০২১৬১৪।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জানান, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বুধবার ( ৪ এপ্রিল) মুন্নীর বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
থানা অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদুল ইসলাম জানান, মুন্নীর পরিবার আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। আমরা সন্দেহজনকভাবে তার স্বামী সোহাগকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করি এবং ওইদিন প্রাথমিক চিকিৎসা খরচ দিয়ে মুন্নীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই।





