প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসা মৌসুমী দাসকে ফিরিয়ে নেয়ার (২১) উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্য সরকার। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ওই তরুণীকে ঢাকায় আটক করে পুলিশ। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আসামের কাছার জেলার শিলচরে বাণিজ্য মেলায় অংশ নেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নুমান বাদশা। সেখানেই তার পরিচয় হয় ভারতের করিমগেঞ্জর রবীন্দ্র সদন গার্লস কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌসুমীর সাথে। দুই জনের পরিচয় পরিণত হয় ভালবাসায়।

এরপর, গত ১২ মার্চ বাড়ি ছাড়েন মৌসুমী। ওইদিনই করিমগঞ্জ থানায় মৌসুমীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করে। ১৩ মার্চ অপহরণের মামলা দায়ের করে পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই বাদশার বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয় যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। সেটি কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশে চলে যান বাদশা। দেশে ফিরে ধর্ম পরিবর্তন করে মৌসুমির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ফাতিমা জান্নাত।

বিষয়টি প্রেম ঘটিত-তা পরিস্কার হওয়ার পরই বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারের সেক্রেটারি রমাকান্ত গুপ্তর সাথে যোগাযোগ করে আসাম রাজ্য সরকার।

এরই মধ্যে গত ২৭ মার্চ ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। ওই ভিডিওতে মৌসুমীকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেমরা থানার ভিতরে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, আমি আমার নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশে এসেছি এবং আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। আমি ভারত থেকে পালিয়ে এসেছি এবং এখানে আমার স্বামীর সাথেই থাকতে চাই।

ভিডিওতে সে মুসলিম হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করে। মৌসুমি জানায়, বাংলাদেশ খুব সুন্দর একটা দেশ। আমি ভারতে ফেরত যেতে চাই না। আমি আর এখন শিশু নই যে আমাকে প্রলোভন দেখানো হবে।

করিমগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গৌরব উপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পুলিশ ওই ভারতীয় তরুণীকে আটক করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঢাকায় গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারির কাছে ওই তরুণী জানায় যে তিনি নিজের ইচ্ছাতেই আগরতলা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যায় এবং সেখানে ধর্মান্তরিত হয়ে নুমান বাদশাকে বিয়ে করেন।

পুলিশ সুপার জানান, মৌসুমী ওই বাংলাদেশি যুবকের প্রেমে পড়েছিলেন। এরপরই আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে গিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করেন। ওই তরুণীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সম্ভাব্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি।

ভারতের রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা বাংলাদেশ মিশনের সাথে যোগাযোগ রাখছি এবং আশা করছি বাংলাদেশ সরকার ওই তরুণীর অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারতে ফেরত দেবে।