রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশচন্দ্র ভৌমিকের লাশ উদ্ধার করেছে র্যাব-১৩। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী, মেয়েসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) রাত ১২ টায় রথীশচন্দ্র ভৌমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
র্যাব-১৩ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আরমিন রাব্বি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রথীশচন্দ্র ভৌমিকের বাড়ি থেকে আধা কিলো মিটার দূরে তাজহাট মোল্লাপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে রথীশচন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে একটি মৃত দেহের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব। এরপর স্বজনরা গিয়ে রথীশচন্দ্র ভৌমিকের লাশ সনাক্ত করেন।
রংপুরের এএসপি মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। রথীশচন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারের পরকীয়ার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রথীশচন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী, মেয়ে, স্নিগ্ধা সরকারের সহকর্মী শিক্ষক কামরুল ও রথীশচন্দ্র ভৌমিকের এক সহকারী উকিল মিলনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (৩০ মার্চ) সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হন রথীশচন্দ্র ভৌমিক। এরপর তিনি আর ফেরেননি।
রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রংপুর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করতেন বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও কামরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাবু সোনার মাঝে মাঝে ঝগড়া হতো। পরকীয়ার কারণে অশান্তি ছিল পরিবারের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে অনেকবার ঘরোয়াভাবে বিচারও হয়। কিন্তু তারপরও পরকীয়া থেকে ফেরাতে পারেনি স্ত্রীকে। বাবু সোনার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। বাড়িতে তেমন একটা লোকজন থাকতো না। বাবু সোনাও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ফিরতেন।
খুন হওয়া রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক বলেন, আমি দাদার লাশ দেখে তাকে শনাক্ত করি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।





