জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার প্রধান আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের (বাবু সোনা) লাশ উদ্ধার করেছে র্যাব। স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে শহরের তাজহাট মোল্লাপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে তার লাশ পাওয়া যায়। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়েনর (র্যাব-১৩) অধিনায়ক মেজর আরমিন রাব্বী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রংপুরের র্যাব ১৩-এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা রাত পৌনে ১টার দিকে রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাজহাট মোল্লাটারির একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করেছি। লাশটা কিছুটা বিকৃত হয়েছে।’ নির্মাণাধীন ওই বাড়িতে তাঁর লাশটি মাটিচাপা দেওয়া ছিল।
উদ্ধারের পর রথীশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক লাশটি শনাক্ত করেন।
র্যাব জানায়, রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ও তাঁর দুই সহকর্মীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে অভিযানে নামে র্যাব। আটক করা ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের সন্ধান মেলে। এ সময় আটক রথীশের স্ত্রীকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।
যে বাড়িতে রথীশের লাশ পাওয়া গেছে, তা স্ত্রী স্নিগ্ধার সহকর্মী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলামের ভাইয়ের বাড়ি।আটক স্ত্রী স্নিগ্ধার দুই সহকর্মী হলেন- তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমান।
র্যাব-১৩ অধিনায়ক মেজর আরমিন রাব্বি জানান, স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকারের সঙ্গে তার এক সহকর্মী শিক্ষকের সম্পর্কের জেরে রথীশ খুন হতে পারে। দীপার দেয়া তথ্যেই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রংপুরে নিখোঁজ আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের লাশ উদ্ধারের সময় পরনে ছিল জুতা, শার্ট ও প্যান্ট। তাঁর শরীর বিছানার চাদর ও লুঙ্গি দিয়ে মোড়ানো ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার দিনভর রংপুর শহরের বাড়ির পাশের ডোবায় তল্লাশি চালায় র্যাব।এ সময় পুলিশ-র্যাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ডোবায় তল্লাশি চালানোর সময় সেখানে একটি রক্তমাখা শার্ট পাওয়া যায়। এছাড়া রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের আশপাশের বাড়ি, দোকানপাট ঝোপ-ঝাড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
গত ৩০ মার্চ রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর রক্তমাখা শার্ট নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। গতকাল বিভিন্ন সংগঠন রথীশ চন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার প্রতিবাদে প্রতীকী অনশন পালন করে।
রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, ৩০ মার্চ রথীশ চন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে ১০টা ২২ মিনিটে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। মঞ্চনাটকসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ওই সংগঠনের লোকজনেরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতেই রথীশ চন্দ্র রংপুর টাউন হল মঞ্চে রাত নয়টা পর্যন্ত মঞ্চনাটক করেছেন এবং পাশে লালন উৎসব মঞ্চেও উঠেছিলেন।
এরপর তিনি সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি যান। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ফোন বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি ধরেই গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। পরের দিন তাঁর স্ত্রী দাবি করেন, রশীথ চন্দ্র নিখোঁজ হয়েছেন। অজ্ঞাত মোটরসাইকেলে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এটি ছিল বানানো কথা।
রংপুর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন। রথীশ চন্দ্রের লাশ থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।





