মেয়ের জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগত। কোনো ডাক্তারই ছোট্ট পিয়ালির রোগ ভালো করতে পারেননি। এজন্য বাবা মানত করেছিলেন, মেয়ে ভালো হলে বিয়ে দেবেন গ্রামের মন্দিরের শিব ঠাকুরের মূর্তির সঙ্গে। কথামত গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবের সঙ্গে বিয়ে দেন পাঁচ বছরের পিয়ালিকে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের চাপদা গ্রামের শিব মন্দিরে যখন পিয়ালিকে বউ সাজানো হয়। তখন সে ঘাবড়ে গিয়েছিল। পরে এমন বিয়ের খবরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। খবর আনন্দবাজারের।

পিয়ালির বাবা রামপাল জানান, ‘জন্ম থেকে পিয়ালি শুধু ভুগত। একমাত্র মেয়ের রোগ সারাতে গ্রামের শিব ঠাকুরের কাছে মানত করেছিলাম। রোগ সেরে যাওয়ায় ওই শিবের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি।’

তবে এমন বিয়েকে অন্ধ বিশ্বাস আখ্যা দিয়ে কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মানব সামন্ত বলেন, ‘এখনও অনেকে কুসংস্কার আঁকড়ে রয়েছেন। এসব ভাঙতে সচেতনতা প্রচার করব।’

স্থানীয় দেউলিয়া সত্যেন বসু বিজ্ঞান সংস্থার সম্পাদক আনন্দবরণ হান্ডাও বলছেন, ‘বহুযুগ আগে ঠাকুর-দেবতার সঙ্গে বিয়ের কথা শোনা যেত। আমরাও প্রয়োজনে চাপদা গ্রামে গিয়ে কুসংস্কার বিরোধী সচেতনতা শিবির করব।’

পিয়ালির প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকেরা আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ঘটনার প্রভাব যাতে ওই ছাত্রীর মনে না পড়ে, আমরা সেই চেষ্টা করব।